শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে বীজতলা রক্ষায় কৃষি বিভাগের নির্দেশনা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। লেগে থাকা তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে বীজতলাগুলোতে। সে কারণে পঁচে নষ্ট হচ্ছে বীজতলার চারা। আর এ কারণে বোরো আবাদে চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে বীজতলাগুলো সাদা রং ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও বীজের গোড়ায় পচনধরা দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও নষ্টও হয়েছে। পাশাপাশি দেখা গেছে বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিদের। তারা কেউ গরম পানি দিচ্ছেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কেউ। আবার ঔষধও ছিটচ্ছেন অনেকে। বীজতলা রক্ষায় সবধরনে প্রচেষ্টাই করছেন কৃষকেরা।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা গ্রামের কৃষক মো. সবুজ মিয়া (৩৫) বলেন, আবাদ করার মোতো মোর চাইর বিঘা ভুই আছে। ধানের বেসনোত (বীজ) মোর খরচ হইবে কম করি হইলেও ৬ হাজার ট্যাকা। বেসনও খুব সুন্দর হইছিল মোর। কয়দিনের শীতে অবস্থা খারাপ হইছে। সাদা হয়া পচি যাবার নাইকছে। নষ্ট হইলে ভুই গাইরবার বেসোন মুই কোন্টে পাইম সেই টেনশনে আছোম।

কথা হয় সোনারায় ইউনিয়নের আরেক কৃষক মো. মোজাম্মেল হকের (৫৫) সাথে। তিনি বলেন, “মোর নিজের কোনো ভুই নাই। বন্দক নেওয়া আছে এক বিগা। মানুষের ভুইয়োত মুই বেসন ফ্লাইছোম। ভুইয়ের ভাড়া বাবদ তাক ট্যাকা দেছম ৪’শ। দেড় কেজি ধানের বেছন কিনছোম ৬৫০ ট্যাকা দিয়া। কামলা, সার ও ঔষধ বাবত গেইছে ৫’শ ট্যাকার মতো। আর কয়দিন পরেই বেছন তুলনু হয়। সেই বেছনোত মোর অসুখ ধইরছে। এই বেছন নষ্ট হইলে মুই ভুই গাইরব্যর পাবাননম। বউ ছাওয়া নিয়া কি করি খাইম টেনশনে আছোম।

ফলগাছা গ্রামের আরেক কৃষক মো. জাহেরুল ইসলাম (৫৩) বলেন, “বীজতলায় সাদা লক্ষণ দেখামাত্র কৃষি অফিসারকে ফোন করেছিলাম। উনি এসে বীজতলা দেখে পরামর্শ দিয়েছেন। সে মোতাবেক গমর পানি ছিটচ্ছি। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতেছি রাতে করে। পাশাপাশি ছত্রাক নাশক ঔষধ ছিটচ্ছি। আল্লাহর রহমত আমার বীজতলা এখন পর্যন্ত ঠিক আছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় এ বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে বীজ তলা রয়েছে ১ হাজার ৫৬১ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রা পূরণে আরও ৪০ থেকে ৫০ হেক্টর জমিতে বীজ ফেলা বাকি আছে।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রাশিদুল কবিরের সাথে। তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলগুলোতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জরুরি মিটিং করেছি। মাঠে আমরা সবাই আছি। সেগুলো তদারকি করা হচ্ছে। পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। সে ভাবে তারা বীজতলাগুলোতে রাতে পানি দিয়ে রাখতেছেন। সকালে সে পানিগুলো আবার বের করে দিচ্ছেন। আগাছার শিশিরগুলো লাঠি বা কাঠি দিয়ে পরিস্কার করছেন। বেশি আক্রমণ বীজতলাগুলোতে এমওপি সার, থিওভিট ও ছত্রাক নাশক ছিটানোর পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে বীজতলা রক্ষায় কৃষি বিভাগের নির্দেশনা

প্রকাশের সময়: ০৯:০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। লেগে থাকা তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে বীজতলাগুলোতে। সে কারণে পঁচে নষ্ট হচ্ছে বীজতলার চারা। আর এ কারণে বোরো আবাদে চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীতের কারণে বীজতলাগুলো সাদা রং ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও বীজের গোড়ায় পচনধরা দেখা দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও নষ্টও হয়েছে। পাশাপাশি দেখা গেছে বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিদের। তারা কেউ গরম পানি দিচ্ছেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কেউ। আবার ঔষধও ছিটচ্ছেন অনেকে। বীজতলা রক্ষায় সবধরনে প্রচেষ্টাই করছেন কৃষকেরা।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা গ্রামের কৃষক মো. সবুজ মিয়া (৩৫) বলেন, আবাদ করার মোতো মোর চাইর বিঘা ভুই আছে। ধানের বেসনোত (বীজ) মোর খরচ হইবে কম করি হইলেও ৬ হাজার ট্যাকা। বেসনও খুব সুন্দর হইছিল মোর। কয়দিনের শীতে অবস্থা খারাপ হইছে। সাদা হয়া পচি যাবার নাইকছে। নষ্ট হইলে ভুই গাইরবার বেসোন মুই কোন্টে পাইম সেই টেনশনে আছোম।

কথা হয় সোনারায় ইউনিয়নের আরেক কৃষক মো. মোজাম্মেল হকের (৫৫) সাথে। তিনি বলেন, “মোর নিজের কোনো ভুই নাই। বন্দক নেওয়া আছে এক বিগা। মানুষের ভুইয়োত মুই বেসন ফ্লাইছোম। ভুইয়ের ভাড়া বাবদ তাক ট্যাকা দেছম ৪’শ। দেড় কেজি ধানের বেছন কিনছোম ৬৫০ ট্যাকা দিয়া। কামলা, সার ও ঔষধ বাবত গেইছে ৫’শ ট্যাকার মতো। আর কয়দিন পরেই বেছন তুলনু হয়। সেই বেছনোত মোর অসুখ ধইরছে। এই বেছন নষ্ট হইলে মুই ভুই গাইরব্যর পাবাননম। বউ ছাওয়া নিয়া কি করি খাইম টেনশনে আছোম।

ফলগাছা গ্রামের আরেক কৃষক মো. জাহেরুল ইসলাম (৫৩) বলেন, “বীজতলায় সাদা লক্ষণ দেখামাত্র কৃষি অফিসারকে ফোন করেছিলাম। উনি এসে বীজতলা দেখে পরামর্শ দিয়েছেন। সে মোতাবেক গমর পানি ছিটচ্ছি। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতেছি রাতে করে। পাশাপাশি ছত্রাক নাশক ঔষধ ছিটচ্ছি। আল্লাহর রহমত আমার বীজতলা এখন পর্যন্ত ঠিক আছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায় এ বছরে বোরো আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে বীজ তলা রয়েছে ১ হাজার ৫৬১ হেক্টর। লক্ষ্য মাত্রা পূরণে আরও ৪০ থেকে ৫০ হেক্টর জমিতে বীজ ফেলা বাকি আছে।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো রাশিদুল কবিরের সাথে। তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলগুলোতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জরুরি মিটিং করেছি। মাঠে আমরা সবাই আছি। সেগুলো তদারকি করা হচ্ছে। পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। সে ভাবে তারা বীজতলাগুলোতে রাতে পানি দিয়ে রাখতেছেন। সকালে সে পানিগুলো আবার বের করে দিচ্ছেন। আগাছার শিশিরগুলো লাঠি বা কাঠি দিয়ে পরিস্কার করছেন। বেশি আক্রমণ বীজতলাগুলোতে এমওপি সার, থিওভিট ও ছত্রাক নাশক ছিটানোর পরামর্শও দেয়া হয়েছে।