শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শোকের দিনে উৎসব, পুকুরের মাছ ভাগাভাগি কর্মকর্তাদের

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ যখন শোকে কাতর। ঠিক সেই মূহুর্তে মাছ ধরার উৎসব পালন করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার দিকে। নিজেরাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সরকারি পুকুরের সেই মাছগুলো। দেয়া হয়নি কোনো গরীব ও অসহায় মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তবে উল্লাস করে মাছ ধরার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, পুকুরে কি পরিমাণ মাছ আছে সেটি দেখার জন্য জাল ফেলানো হয়েছিলো। কিন্তু কোনো মাছ ধরে নেয়া হয়নি। তাছাড়া আমরা পতাকা উত্তোলনসহ শোক পালন করেছি।

তথ্যে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থে মাছের এ পোনাগুলো ছাড়া হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরীব, দুঃখী, দুস্থ ও অসহায় মানুষ এবং এতিমখানায় বিতরণের কথা থাকলেও তা মানেননি তারা। উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তাগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ভাগাভাগি করে নেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। শোকে কাতর সারাদেশ। সবাই যখন শোকে মাতম। ঠিক সেই সময়ে মাছ ধরার উৎসব পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তারা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। পরে সেগুলো বস্তায় ভর্তি করে ভ্যানযোগে নিয়ে যান ইউএনও’র সরকারি বাস ভবনের সামনে। সেখান থেকে তারা এ মাছগুলো ভাগাভাগি করে নিজেরাই নেন। কোনো গরীব বা অসহায় মানুষদের দেয়া হয়নি একটি মাছও। যেখানে দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, সেখানে ‘হৈ হুল্লোড়’ করে মাছ ধরা এবং কাউকে না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার এবং দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে পুকুরের মাছ ধরা হয়েছে। পরে সেগুলো ভাগবাটোয়ারা করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়। কিছু সাংবাদিককেও একটা অংশ দেয়া হয়েছে।

পুকুর পাড়ের রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ তিনি বলেন, ঘটনার সময় উল্লাস করে ৬ বস্তা মাছ ধরেন। আনছার সদস্যরা সেগুলো মেনছের আলীর ভ্যানে করে ইউএনও’র বাসভবনের সামনে নিয়ে যান। কাউকে দেয়া তো দূরের কথা আমাকেও একটা মাছ দেননি তারা। অথচ সারাবছর আমার সামনে মাছগুলো বড় হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সম্মিলিত প্রেস ক্লাবের আহবায়ক মো. নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, মাছ উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানি না। কেউ আমাকে বলেওনি। শোক পালন না করে তারা মাছ ধরার উল্লাস করেছে বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক এ নেতা।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো মাহমুদুল ইসলাম প্রমাণিক বলেন, সরকারি পুকুরের মাছ উত্তোলনের বিষয়টি আমরা জানি না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকে মাতম দেশবাসী। ঠিক সেই মূহুর্তে এভাবে আনন্দ-উল্লাস বা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা দৃষ্টিকটুর সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয়

শোকের দিনে উৎসব, পুকুরের মাছ ভাগাভাগি কর্মকর্তাদের

প্রকাশের সময়: ০৫:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ যখন শোকে কাতর। ঠিক সেই মূহুর্তে মাছ ধরার উৎসব পালন করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার দিকে। নিজেরাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সরকারি পুকুরের সেই মাছগুলো। দেয়া হয়নি কোনো গরীব ও অসহায় মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তবে উল্লাস করে মাছ ধরার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, পুকুরে কি পরিমাণ মাছ আছে সেটি দেখার জন্য জাল ফেলানো হয়েছিলো। কিন্তু কোনো মাছ ধরে নেয়া হয়নি। তাছাড়া আমরা পতাকা উত্তোলনসহ শোক পালন করেছি।

তথ্যে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থে মাছের এ পোনাগুলো ছাড়া হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গরীব, দুঃখী, দুস্থ ও অসহায় মানুষ এবং এতিমখানায় বিতরণের কথা থাকলেও তা মানেননি তারা। উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তাগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ভাগাভাগি করে নেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। শোকে কাতর সারাদেশ। সবাই যখন শোকে মাতম। ঠিক সেই সময়ে মাছ ধরার উৎসব পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তারা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। পরে সেগুলো বস্তায় ভর্তি করে ভ্যানযোগে নিয়ে যান ইউএনও’র সরকারি বাস ভবনের সামনে। সেখান থেকে তারা এ মাছগুলো ভাগাভাগি করে নিজেরাই নেন। কোনো গরীব বা অসহায় মানুষদের দেয়া হয়নি একটি মাছও। যেখানে দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক চলছে, সেখানে ‘হৈ হুল্লোড়’ করে মাছ ধরা এবং কাউকে না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার এবং দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে পুকুরের মাছ ধরা হয়েছে। পরে সেগুলো ভাগবাটোয়ারা করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বন্টন করা হয়। কিছু সাংবাদিককেও একটা অংশ দেয়া হয়েছে।

পুকুর পাড়ের রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ তিনি বলেন, ঘটনার সময় উল্লাস করে ৬ বস্তা মাছ ধরেন। আনছার সদস্যরা সেগুলো মেনছের আলীর ভ্যানে করে ইউএনও’র বাসভবনের সামনে নিয়ে যান। কাউকে দেয়া তো দূরের কথা আমাকেও একটা মাছ দেননি তারা। অথচ সারাবছর আমার সামনে মাছগুলো বড় হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সম্মিলিত প্রেস ক্লাবের আহবায়ক মো. নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, মাছ উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানি না। কেউ আমাকে বলেওনি। শোক পালন না করে তারা মাছ ধরার উল্লাস করেছে বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক এ নেতা।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো মাহমুদুল ইসলাম প্রমাণিক বলেন, সরকারি পুকুরের মাছ উত্তোলনের বিষয়টি আমরা জানি না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকে মাতম দেশবাসী। ঠিক সেই মূহুর্তে এভাবে আনন্দ-উল্লাস বা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা দৃষ্টিকটুর সামিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।