বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের সরিষাবাদ গ্রামে সরকারি খাস জায়গা জবরদখল করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি খাস জায়গার গাছ কেটে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা বন্ধ করার ঘটনায় চারটি পরিবার বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের তীর একই গ্রামের মৃত শহিদুল্লাহর প্রামাণিকের ছেলে আমজাদ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আকলিমা বিবির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সরিষাবাদ গ্রামের মমতাজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে ইলিয়াস আলী ফকির ১৮ জুন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাদ মৌজার ৮০১ দাগের ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছেন অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, ওই সরকারি খাস জায়গার গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই খাস জায়গা জবরদখল করে ব্যবহার করে আসছেন অভিযুক্তরা। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইলিয়াস আলী ফকিরের বাড়ির সামনে একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি সরকারি খাস জায়গায়। সম্প্রতি সেখানে বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ইলিয়াস আলী ফকিরসহ চারটি পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে পথ চলাচল করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের। ভুক্তভোগী ইলিয়াস আলী ফকির বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র রাস্তা বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তাই বাধ্য হয়ে সরকারি খাস জায়গা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, সরকারি খাস জায়গায় রাস্তা বন্ধ ও গাছ কেটে বিক্রি করার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাজমুল হুদা, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) 

















