শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঘাটায় সালাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী সালাহ উদ্দিন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাঘাটা উপজেলা শাখা। এ সময় দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রধান আসামি মুকুল ও পলাশসহ অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

‎শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার বোনারপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

‎বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—জাস্টিস ফর শহীদ সাইফুল্লাহ , ‘খুনি মুকুলের ফাঁসি চাই’, ‘খুনি পলাশের ফাঁসি চাই’ এবং ‘সালাহ উদ্দিনের খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই’। মূল ব্যানারে সালাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সাঘাটার বোনারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন এবং সালাহ উদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরে দীর্ঘ প্রায় ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে সালাহ উদ্দিনের মৃত্যু হয় বলে তার স্বজন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলার ঘটনায় সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যু এবং সালাহ উদ্দিনের পরবর্তী মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

‎সমাবেশে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রধান আসামি মুকুলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে মুকুল, পলাশসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
‎সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

‎বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের নিরাপত্তা ও যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

‎সমাবেশ শেষে নিহত সালাহ উদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতারা।

জনপ্রিয়

সাঘাটায় সালাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

প্রকাশের সময়: ০৮:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুব বিভাগের কর্মী সালাহ উদ্দিন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাঘাটা উপজেলা শাখা। এ সময় দুই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রধান আসামি মুকুল ও পলাশসহ অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

‎শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার বোনারপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

‎বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—জাস্টিস ফর শহীদ সাইফুল্লাহ , ‘খুনি মুকুলের ফাঁসি চাই’, ‘খুনি পলাশের ফাঁসি চাই’ এবং ‘সালাহ উদ্দিনের খুনিদের দ্রুত ফাঁসি চাই’। মূল ব্যানারে সালাহ উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সাঘাটার বোনারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন এবং সালাহ উদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরে দীর্ঘ প্রায় ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে সালাহ উদ্দিনের মৃত্যু হয় বলে তার স্বজন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

‎বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলার ঘটনায় সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যু এবং সালাহ উদ্দিনের পরবর্তী মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

‎সমাবেশে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রধান আসামি মুকুলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে মুকুল, পলাশসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
‎সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

‎বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের নিরাপত্তা ও যথাযথ সহযোগিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।

‎সমাবেশ শেষে নিহত সালাহ উদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতারা।