গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আগাছা দমনের জন্য স্থানীয় কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ না পাওয়ায় এমন ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. কামরুজ্জামান মিয়া (৪৫)।
এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে।
ভুক্তভোগী কৃষকের বাড়ি উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবদুর জব্বার সরকার।
তার অভিযোগ, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর পরামর্শের জন্য কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তবে কর্মকর্তাকে না পেয়ে স্থানীয় নবাবগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব মিয়ার দোকান থেকে আগাছানাশক ওষুধ ক্রয় করি। এরপর জমিতে প্রয়োগ করি এবং পরদিনই আগাছার পরিবর্তে ধানগাছ মরে যেতে শুরু করেছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, আগাছানাশক ঔষধ চাইলে ওই ব্যবসায়ী এরাক্সন ২০ এসএল নামের ১০০ মিলিলিটার ঔষধ দেয় তাকে। ঔষধটির কোম্পানির নাম মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যালস লিমিটেড। দোকানদারের পরামর্শ মোতাবেক এ মাসের গত ১৩ তারিখে ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন। এরপর দিন জমিতে গিয়ে দেখেন প্রায় ৯০ শতাংশ ধানগাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে।
কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার জানামতে ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ সে আমার কাছে থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দেননি উনি। তবে বিষয়টি শুনেছি। ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জমিতে যাবো। তখন বোঝা যাবে কি কারণে ধানের চারা মারা গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে অফিসে যাইনি। সে কারণে অভিযোগের বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ওষুধ এবং ওষুধের প্রয়োগ পদ্ধতি ঠিক আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখল বোঝা যাবে কি কারণে আগাছা নষ্ট না হয়ে চারাগাছ নষ্ট হয়েছে। তবে লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ কেউ বিক্রি করতে পারবেন না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না সেটিও অফিসে দেখতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আননোন নাম্বার ধরা হয় না। সে ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ এ ম্যাসেজ লিখলে হয়তা সহজ হতো।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলির সাথে। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার গতানুগতিক আশ্বাসও দেন তিনি।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















