গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আগামীর সময় পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশিদকে মারধর ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা ও প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
অভিযুক্তরা হলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া (৩০), মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে সরফরাজ মিয়া (৩৮), আসাদুল মহুরির ছেলে মনির মিয়া (৩০) এবং মৃত খোকা মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (৩৮)।
শেখ মামুনুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলরাম গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, শনিবার রাতে এ ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধান ব্যবসার সূত্রে রাকিব মিয়ার সঙ্গে মামুনুর রশিদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি রাকিবের ভাই তুহিন মিয়ার স্ত্রী মোছা. নাইমা জান্নাত নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে তাঁকে নিয়ে দোষারোপ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারী রংপুরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্মানহানির মামলা করার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মামুনুর রশিদ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা হামলা চালিয়েছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, শনিবার মাগরিবের নামাজের পর মামুনুর রশিদ চন্দনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় রাকিব, সরফরাজ, মনির ও তুহিনসহ আরও দুই-তিনজন সেখানে গিয়ে তাঁকে জোর করে দোকান থেকে বের করে মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে রাকিব মিয়া তাঁর পকেট থেকে ধান ব্যবসার ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। সরফরাজ তাঁর ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি খুলে নেন বলে অভিযোগ করেন মামুনুর রশিদ। পরে সরফরাজ তাঁকে শহীদ মিনারের পাকা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং রাকিব তাঁর গলা চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা আবারও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ মিয়া বলেন, ‘মামুন ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে চা খেয়ে আমি আমার দোকানে আসি। পরে দেখি রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করছেন। আমি আটকানোর চেষ্টা করলে রাকিব আমাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।’
চায়ের দোকানের মালিক চন্দন বলেন, ‘মামুন আমার দোকানে বসে ছিলেন। রাকিব, মনির, সরফরাজ, তুহিনসহ কয়েকজন এসে তাঁকে জোর করে বাইরে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে আমাকেও মারার হুমকি দেয়। এরপর তারা মামুনকে মারধর করে।’
অভিযোগের বিষয়ে রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া, মনির মিয়া ও তুহিন মিয়ার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এর আগে আসামিরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় আমার টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় এজাহার দিয়েছি।’
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 





















