মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তাঁর সাফল্য দেখে আশপাশের কয়েকজন কৃষকও গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, ময়েজ উদ্দিনের শিমখেত ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে। মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি শিম। নিয়মিত পরিচর্যা, শিম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকেই গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরিপ-২/২০২৬ মৌসুমে তিনি ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করেন। এতে তাঁর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এই জাতের শিম চাষ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
ময়েজ উদ্দিনের সফলতা দেখে একই এলাকার কৃষক কায়েসসহ আরও কয়েকজন চলতি মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় শিম চাষের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনের শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালীন চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা স্বল্প খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, মৌসুম ও জলবায়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিক লাভজনক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নত জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 














