শামীম সরদার: দিনভর মণ্ডপে মণ্ডপে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা। কারও হাতে মাটির দলা, কারও হাতে তুলির আঁচড়। কেউ প্রতিমার অবয়নে ফুটিয়ে তুলছেন সূক্ষ্ম কারুকাজ, আবার কেউ ব্যস্ত মণ্ডপের সাজসজ্জায়। দিনের আলো ফোটার পর থেকেই শুরু হচ্ছে কাজ, চলছে সন্ধ্যা পেরিয়েও। শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এখন উৎসবের আমেজ।
উপজেলার ১১৩টি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত কারিগররা। একেকটি প্রতিমা যেন তাঁদের শ্রম, সময় ও শিল্পবোধের সম্মিলিত প্রকাশ।
প্রতিমাশিল্পী দ্বীপ মহন্ত বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। একটি প্রতিমা তৈরি করতে অনেক সময়, শ্রম ও যত্ন প্রয়োজন হয়। মাটির কাজ থেকে শুরু করে রং ও সাজসজ্জা—প্রতিটি ধাপেই শিল্পীর আলাদা মনোযোগ থাকে। পূজার আগে প্রতিমাকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে আয়োজকদের হাতে তুলে দিতে পারলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজ চলছে, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি। পূজা কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিজেদের দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন। উৎসবের দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
আরাজী জামালপুর মন্দির কমিটির সভাপতি কাজল দেব শর্মা বলেন, পূজাকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সবাই যেন দুর্গোৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের কাছে দুর্গাপূজা এখন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পূজার দিনগুলোতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মণ্ডপে আসেন। প্রতিমা দেখার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও থাকে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ফলে পূজামণ্ডপগুলো কয়েক দিনের জন্য পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়।
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, সবার সহযোগিতায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন হবে বলে আমরা আশা করছি। পূজার আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সভা আয়োজনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম।
সব মিলিয়ে এখন অপেক্ষা শুধু উৎসবের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, মণ্ডপে শেষ সাজসজ্জা আর ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় সাদুল্লাপুরের ১১৩টি পূজামণ্ডপ। শরতের শুভ্রতার সঙ্গে মানুষের মনে ধীরে ধীরে জমে উঠছে শারদীয় উৎসবের রং।
সনাতন পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমীর পর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও ২০ অক্টোবর মহানবমী শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব।
শামীম সরদার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 




















