আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো ধরনের কলঙ্ক গায়ে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যতবার পথ হারিয়েছে, বিএনপির হাত ধরে ততবারই পথ ফিরে পেয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে দেশ যখন সংকটে পড়েছিল, তখন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমান সিপাহি-জনতার সমর্থনে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ওই সময়ে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নব্বইয়ের দশকে দেশ আবারও পথ হারালে জিয়া পরিবারের হাত ধরে উন্নয়নের পথে ফিরে আসে। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বারবার সেই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে মাত্র সাত মাস হয়েছে। এই সময়ে সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষকে বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে পারব—বলেন তিনি।
বিগত ২০ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে, যখন দেশ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও উন্নয়নের জন্য সরকার সাধ্যমতো কাজ করছে। বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানেও সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ যেন বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবল দলের মতো—কখনো বিশ্বকাপে যেতে পারে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্ষমতায় না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়ন কিছুটা কম হতে পারে। তবে গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের উন্নয়ন সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গাইবান্ধাসহ সারা দেশের মানুষকে বাসযোগ্য পরিবেশ দিতে সব ধরনের উন্নয়ন করা হবে। বগুড়ার উন্নয়ন হলে এর সুফল অন্যান্য জেলার পাশাপাশি গাইবান্ধার মানুষও পাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হাসান জিয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর তিনি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও সমন্বয় সভায় যোগ দেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 














