রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে একসময় গ্রামবাংলার প্রকৃতির অন্যতম পরিচিত পাখি বাবুইয়ের দেখা মিললেও কালের বিবর্তনে এখন তা অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে।

বাবুইপাখির সবচেয়ে পরিচিত বাসা খেজুর, তাল ও নারিকেলগাছের ডাল বা পাতার সাথে ঝুলতে দেখা যেতো। বাবুইপাখি মূলত ঘাস, খড় ও বিভিন্ন উদ্ভিদের সরু আঁশ/তন্তু দিয়ে বাসা তৈরি করে। বাবুইপাখির বাসা সাধারণত মাটির বেশ ওপরে তৈরি করে, যাতে শিকারি প্রাণীর কবল থেকে নিরাপদ থাকে। সেই পাখির বাসা এখন দেখাই যায় না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই পাখি।

বাবুইপাখি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো, গাছপালা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়া। তাল ও খেজুরগাছসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলা। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার। পোকামাকড় কমে যাওয়ায় খাবারের সংকট। এছাড়াও জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তন। বিশেষ করে গাছ কাটা ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার বাবুইপাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

নন্দীগ্রাম উপজেলায় তেমন নারিকেল গাছ না থাকলেও একসময় প্রতিটি গ্রামে বাড়ির সামনে-পেছনে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে এবং মাঠে-ময়দানে অসংখ্য খেজুর ও তালগাছ দেখা যেতো। এসব গাছেই বাবুইপাখি বাসা বাঁধতো। সারি সারি ঝুলন্ত বাসা ও বাবুই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকতো গ্রামবাংলার প্রকৃতি। তবে সময়ের পরিবর্তনে কমে গেছে খেজুর ও তালগাছের সংখ্যা। ফলে বাবুই পাখির আবাসস্থলও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোথাও কোথাও খেজুর ও তালগাছ দেখা গেলেও আগের মতো বাবুই পাখি কিংবা তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, একসময় গ্রামবাংলার প্রকৃতির অপরিহার্য অংশ ছিলো বাবুইপাখি। তাল ও খেজুরগাছসহ বিভিন্ন গাছে তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা ছিলো মানুষের কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটা, প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ও নিরাপদ আবাসস্থলের সংকটের কারণে বাবুইপাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাবুইপাখি শুধু গল্প ও ছবির বিষয় হয়ে থাকবে। পাখিটির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় গাছ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জনপ্রিয়

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি

প্রকাশের সময়: ০৮:২৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার নন্দীগ্রামে একসময় গ্রামবাংলার প্রকৃতির অন্যতম পরিচিত পাখি বাবুইয়ের দেখা মিললেও কালের বিবর্তনে এখন তা অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে।

বাবুইপাখির সবচেয়ে পরিচিত বাসা খেজুর, তাল ও নারিকেলগাছের ডাল বা পাতার সাথে ঝুলতে দেখা যেতো। বাবুইপাখি মূলত ঘাস, খড় ও বিভিন্ন উদ্ভিদের সরু আঁশ/তন্তু দিয়ে বাসা তৈরি করে। বাবুইপাখির বাসা সাধারণত মাটির বেশ ওপরে তৈরি করে, যাতে শিকারি প্রাণীর কবল থেকে নিরাপদ থাকে। সেই পাখির বাসা এখন দেখাই যায় না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় দিন দিন বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই পাখি।

বাবুইপাখি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো, গাছপালা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়া। তাল ও খেজুরগাছসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলা। জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার। পোকামাকড় কমে যাওয়ায় খাবারের সংকট। এছাড়াও জলবায়ু ও পরিবেশের পরিবর্তন। বিশেষ করে গাছ কাটা ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার বাবুইপাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

নন্দীগ্রাম উপজেলায় তেমন নারিকেল গাছ না থাকলেও একসময় প্রতিটি গ্রামে বাড়ির সামনে-পেছনে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে এবং মাঠে-ময়দানে অসংখ্য খেজুর ও তালগাছ দেখা যেতো। এসব গাছেই বাবুইপাখি বাসা বাঁধতো। সারি সারি ঝুলন্ত বাসা ও বাবুই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকতো গ্রামবাংলার প্রকৃতি। তবে সময়ের পরিবর্তনে কমে গেছে খেজুর ও তালগাছের সংখ্যা। ফলে বাবুই পাখির আবাসস্থলও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোথাও কোথাও খেজুর ও তালগাছ দেখা গেলেও আগের মতো বাবুই পাখি কিংবা তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বাবুই পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি, বেসরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, একসময় গ্রামবাংলার প্রকৃতির অপরিহার্য অংশ ছিলো বাবুইপাখি। তাল ও খেজুরগাছসহ বিভিন্ন গাছে তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা ছিলো মানুষের কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটা, প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ও নিরাপদ আবাসস্থলের সংকটের কারণে বাবুইপাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাবুইপাখি শুধু গল্প ও ছবির বিষয় হয়ে থাকবে। পাখিটির আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় গাছ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।