শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে নির্মাণাধীন স্কুল ভবনের রড চুরির অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নির্মাণাধীন একটি বিদ্যালয় ভবনের রড চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।

এদিকে এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনাও দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দামোদরপুর ইউনিয়নের উত্তর দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য সেখানে বিপুল পরিমাণ রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল। এরই একর্যায়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে স্কুলটির নৈশ্যপ্রহরী মোমিনুল ইসলাম ৩৫৭ কেজি রড চুরি করেন এবং তার ছোট ভাই মাহিদুল ইসলাম, প্রতিবেশী জাহিদ মিয়া ও দারোয়ান জুয়েল মিয়া এসব রড স্থানীয় ছোটন মিয়ার ভ্যানযোগে রসুলপুরের মহিষবান্দির একটি ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে। এসময় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী নূর সালাফী ও সাজু মিয়া ওই দোকানে গিয়ে চোরাই রড শনাক্ত করেন। এরই মধ্যে মাহিদুল ইসলাম, জাহিদ মিয়া ও জুয়েল মিয়া পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল চুরির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দকৃত রডসহ অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব যাচাই করে প্রকৃত ঘাটতি নির্ধারণ এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় আমিনুর রহমান ও মুকুল মিয়াসহ আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়টি এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেই ভবনের নির্মাণসামগ্রী চুরি হলে শুধু ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, সরকারি অর্থেরও ক্ষতি হবে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় নুর সালাফী ও সাজু মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে চুরি করা রডগুলো মহিষবান্দীর এক ভাঙ্গারী দোকানে গিয়ে ধরা হয়। পরে ঠিকাদারী কোম্পানির প্রকৌশলীর মাধ্যমে রডগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনার মূল হোতা ও স্কুলের নৈশ্যপ্রহরী মোমিনুলের সহযোগী মাহিদুল, জাহিদ ও দারোয়ান জুয়েল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তর দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ নয়ন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণধীন ভবনের রড চুরির ঘটনাটি সত্য।  বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, যেহেতু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রড চুরি হয়েছে সেহেতু এ প্রতিষ্ঠানটিই সেটির ব্যবস্থা নেবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হা-মীম ইন্টার ন্যাশনাল কোম্পানির প্রকৌশলী সুজা মিয়া বলেন, খবর পেয়ে চোরাই রডগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে নির্মাণাধীন স্কুল ভবনের রড চুরির অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়

প্রকাশের সময়: ০২:৫৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নির্মাণাধীন একটি বিদ্যালয় ভবনের রড চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন ভবনের রড চুরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।

এদিকে এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনাও দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দামোদরপুর ইউনিয়নের উত্তর দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য সেখানে বিপুল পরিমাণ রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল। এরই একর্যায়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে স্কুলটির নৈশ্যপ্রহরী মোমিনুল ইসলাম ৩৫৭ কেজি রড চুরি করেন এবং তার ছোট ভাই মাহিদুল ইসলাম, প্রতিবেশী জাহিদ মিয়া ও দারোয়ান জুয়েল মিয়া এসব রড স্থানীয় ছোটন মিয়ার ভ্যানযোগে রসুলপুরের মহিষবান্দির একটি ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে। এসময় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী নূর সালাফী ও সাজু মিয়া ওই দোকানে গিয়ে চোরাই রড শনাক্ত করেন। এরই মধ্যে মাহিদুল ইসলাম, জাহিদ মিয়া ও জুয়েল মিয়া পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল চুরির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি। একইসঙ্গে নির্মাণকাজের জন্য বরাদ্দকৃত রডসহ অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব যাচাই করে প্রকৃত ঘাটতি নির্ধারণ এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় আমিনুর রহমান ও মুকুল মিয়াসহ আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যালয়টি এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেই ভবনের নির্মাণসামগ্রী চুরি হলে শুধু ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, সরকারি অর্থেরও ক্ষতি হবে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় নুর সালাফী ও সাজু মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে চুরি করা রডগুলো মহিষবান্দীর এক ভাঙ্গারী দোকানে গিয়ে ধরা হয়। পরে ঠিকাদারী কোম্পানির প্রকৌশলীর মাধ্যমে রডগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনার মূল হোতা ও স্কুলের নৈশ্যপ্রহরী মোমিনুলের সহযোগী মাহিদুল, জাহিদ ও দারোয়ান জুয়েল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তর দামোদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ নয়ন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের নির্মাণধীন ভবনের রড চুরির ঘটনাটি সত্য।  বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, যেহেতু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের রড চুরি হয়েছে সেহেতু এ প্রতিষ্ঠানটিই সেটির ব্যবস্থা নেবে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হা-মীম ইন্টার ন্যাশনাল কোম্পানির প্রকৌশলী সুজা মিয়া বলেন, খবর পেয়ে চোরাই রডগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।