তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতা এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেনের বাবা আইয়ুব আলী সরকার (৮৮) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজউন।
মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর বাসা-বাড়িতে ছুটে আসেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৬ টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা শহরের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মরহুম আইয়ুব আলী সরকারের ছেলে উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সাদেকুল ইসলাম গোলাপ।
তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে গাইবান্ধা শহরের শাপলাপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বাদ আসর সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছান্দিয়াপুর আর এ গণি স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আরাজি তরফ কামাল গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
জানাজা নামাজপূর্ব বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল, সদস্য সচিব আব্দুস ছালাম মিয়া, সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী জুয়েল, জেলা হাজি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুল হালিম মন্ডল, মরহুমের ছেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সাদেকুল ইসলাম গোলাপসহ অনেকে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- আইয়ুব আলী সরকার জীবদ্দশায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। তিনি ছান্দিয়াপুর হাইস্কুল এবং ড. আর এ গনি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মিরপুর হাইস্কুল ও মাদারগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক হিসেবেও তাঁর বিশেষ সুখ্যাতি ছিল তাঁর।
রাজনীতি ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি ১৯৭১ সালে রসুলপুর ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। পরবর্তীতে সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৭৯–১৯৯৪) এবং সভাপতি (১৯৯৪–২০০৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তিনি গাইবান্ধা জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও আমৃত্যু তিনি জয়দেব ঈদগাহ কমিটি এবং গাইবান্ধা জেলা হাজি কল্যাণ সমিতির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, মরহুম আইয়ুব আলী সরকার নিজ এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গন, শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। জীবদ্দশায় তিনি একাধারে ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক ও সমাজসেবক। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
শিক্ষকতা পেশায় থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। একজন শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
এছাড়া রাজনীতির মাঠেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় আদর্শের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করেছেন।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ছিল সরব উপস্থিতি। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করা এবং স্থানীয় নানা সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।
সেইসঙ্গে মরহুম আইয়ুব আলী সরকার শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। শিক্ষকতা, রাজনীতি ও সমাজসেবাকে তিনি মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, একসময় আইয়ুব আলী সরকার ছিলেন দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তাঁর আদর্শ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 























