সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটঘরিয়ায় তমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে খুন

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় আলোচিত কিশোরী তমা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আদম আলী মেম্বারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আদম আলী (৫৫) একদন্ত ইউনিয়নের শাটগাছা গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। পথে চণ্ডীপাশা এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই আদম আলীর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আদম আলী

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর একদন্ত ইউনিয়নের শাটগাছা গ্রামের হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে তমা খাতুন নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল।

তমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই তিনি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিলেন।

তবে ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তিনি দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হলেন।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “আদম আলীকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

জনপ্রিয়

আটঘরিয়ায় তমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে খুন

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় আলোচিত কিশোরী তমা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আদম আলী মেম্বারকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাটগাছা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আদম আলী (৫৫) একদন্ত ইউনিয়নের শাটগাছা গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। পথে চণ্ডীপাশা এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই আদম আলীর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আদম আলী

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর একদন্ত ইউনিয়নের শাটগাছা গ্রামের হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে তমা খাতুন নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি পড়ে ছিল।

তমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই তিনি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় ছিলেন।

তবে ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তিনি দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হলেন।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, “আদম আলীকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।