গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার মধ্যদিয়ে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ও প্রায় ৩০০ মিটারের মধ্যে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোররাত সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপাল চরণ গ্রামে এ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে তাদের। আশপাশ বাড়িঘরের লোকজন ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে ঘটনাস্থলগুলোতে তারা জড়ো হন। স্থানীয় জামায়াত নেতা সাজা প্রফেসরের বাড়ির গেটে ভোর, ৪ টা ২৬ মিনিটে একটা, স্থানীয় গোপাল চরণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৮ মিনিটে একটা এবং কিছুদূর এগিয়ে আওয়ামী লীগনেতা রেজার বাড়ি সংলগ্ন সড়কে ৩০ মিনিটে একটা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তিন স্থানেই ককটেল বিস্ফোরণের আলামত দেখতে পান তারা। সেগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ে আছে। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের লোকজন এগুলো করতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করেছেন।
গোপাল চরণ বড়বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ভোর পাঁচটায় মসজিদে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি জানতে পারি। পরে নামাজ শেষে ঘটনাস্থলে যাই। বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত দেখতে পাই। সেগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে আছে। আমরা থাকতেই পুলিশ আসে এবং আলামতগুলো নিয়ে যান। এ সময় মুসল্লীরাও তার সাথে ছিলেন বলেও জানান এ ইমাম।’
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা প্রফেসর মো. আবুু সোলামান সরকার সাজার সাথে। তিনি বলেন, ‘লং মার্চ শেষে রাত ১২ টার দিকে বাসায় ফিরি। এরপর খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাই। বিকট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। তখন ঘরি দেখি ভোর ৪ টা ২৬ মিনিট। বের হয়ে দেখি আমার বাসার বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে পড়ে আছে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামতগুলো। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের লোকজন এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি। কারণ ককটেলগুলো বিস্ফোরণকালে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানের শব্দ শোনা গেছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল আলম সরকার লেবুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি এবং আপনার মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারলাম। আওয়ামী লীগ এ ধরনের কাজ করবে—এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের দলের পক্ষ থেকে নেই। কাজেই কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমার জানা নেই।’
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিলো। আসলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন বলেও জানান ওসি।’
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















