শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বন্যায় দুশ্চিন্তায় আমনচাষি

নদী ভাঙ্গন আর দফায় দফায় বন্যায় কুড়িগ্রামে প্রায় ৪৫০ টি চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখের শেষ নেই। একদিকে পানি বন্দী জীবন অপর দিকে রোপান আমন ক্ষেত নষ্ট হওয়া চাষীদের কপালে পড়েছে দুঃশ্চিন্তার ছাপ। কৃষকের শেষ সম্বল কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকে। অর্থের অভাব আর পর্যাপ্ত পরিমাণে  বীজ তলা না থাকায় বেশিরভাগ কৃষকের ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টা এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, এবারের বন্যা জেলার ৯ টি উপজেলায় গত ১৫ দিনে ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত,২৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১৫৫ হেক্টর  বীজ তলা পানিতে তলিয়ে  ছিল। এতে করে অধিকাংশ ফসলি আবাদ নষ্ট হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার  গতিয়াশাম গ্রামের হাজী বজলুর রহমান বলেন,গত ৪০ বছরে তিস্তার এমন ভয়ংকর রুপ দেখি নাই। এ গ্রামের ঘর- বাড়ি আবাদি জমি এক পলকে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।আমাদের এ মহাবিপদে সান্ত্বনা দেয়ার মত এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন লোক আসে নাই।
গত ৯ দিনে আমার প্রায় ৬ বিঘা আমন ক্ষেত  নদীতে চলে গেছে।কোন রকম ঘর দুটো নিয়ে জীবন বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে তিস্তার ওপারে আশ্রয় নিয়েছি।
নাগেশ্বরী উপজেলার বীর বাড়ইটারী গ্রামের কিসমত আলী বলেন,শেষ সময়ে  এমন বন্যা হবে জানা ছিল না।আমার ২ বিঘা জমি আমন খেত নষ্ট হয়ে গেছে।জমিতে একটা গুছিও নাই।নতুন করে ধান লাগামো সে বিচনো নাই।সরকার যদি কোন সাহায্য করতো তাহলে আমার মত কৃষকগুলার উপকার হত।
কুড়িগ্রাম সদরের কৃষ্ণপুর গ্রামের শহিদার রহমান বলেন,খুব বড় বন্যা না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্যার পানি থাকায় আমার ৪ বিঘা জমির রোপা আমন খেত ও বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন সেই সময়   নেই যে নতুন ভাবে বীজ তলা করে ক্ষেত লাগাবো।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, হামার অভাবী সংসার ধার দেনা করে চলি।কষ্ট করে ১ বিঘা জমিতে আমন ক্ষেত করছি।এবারের বন্যায় সেই খেত নষ্ট হয়ে গেছে। হামরা কি খেয়ে বাঁচমো তা আল্লাই জানে।
১১ নং হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আবুল হোসেন বলেন,আমার ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টর  রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমরা ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মঞ্জুরুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, রোপা আমন ও সবজি ক্ষেতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারিনি।তবে চলতি বছরের বন্যায় ৯ টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত,২৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১৫৫ হেক্টর  বীজ তলা পানিতে নিমজ্জিত  ছিল।যা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে এ তথ্য পাঠিয়েছি।
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে বন্যায় দুশ্চিন্তায় আমনচাষি

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
নদী ভাঙ্গন আর দফায় দফায় বন্যায় কুড়িগ্রামে প্রায় ৪৫০ টি চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখের শেষ নেই। একদিকে পানি বন্দী জীবন অপর দিকে রোপান আমন ক্ষেত নষ্ট হওয়া চাষীদের কপালে পড়েছে দুঃশ্চিন্তার ছাপ। কৃষকের শেষ সম্বল কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেকে। অর্থের অভাব আর পর্যাপ্ত পরিমাণে  বীজ তলা না থাকায় বেশিরভাগ কৃষকের ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টা এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাড়িয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, এবারের বন্যা জেলার ৯ টি উপজেলায় গত ১৫ দিনে ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত,২৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১৫৫ হেক্টর  বীজ তলা পানিতে তলিয়ে  ছিল। এতে করে অধিকাংশ ফসলি আবাদ নষ্ট হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার  গতিয়াশাম গ্রামের হাজী বজলুর রহমান বলেন,গত ৪০ বছরে তিস্তার এমন ভয়ংকর রুপ দেখি নাই। এ গ্রামের ঘর- বাড়ি আবাদি জমি এক পলকে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।আমাদের এ মহাবিপদে সান্ত্বনা দেয়ার মত এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোন লোক আসে নাই।
গত ৯ দিনে আমার প্রায় ৬ বিঘা আমন ক্ষেত  নদীতে চলে গেছে।কোন রকম ঘর দুটো নিয়ে জীবন বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে তিস্তার ওপারে আশ্রয় নিয়েছি।
নাগেশ্বরী উপজেলার বীর বাড়ইটারী গ্রামের কিসমত আলী বলেন,শেষ সময়ে  এমন বন্যা হবে জানা ছিল না।আমার ২ বিঘা জমি আমন খেত নষ্ট হয়ে গেছে।জমিতে একটা গুছিও নাই।নতুন করে ধান লাগামো সে বিচনো নাই।সরকার যদি কোন সাহায্য করতো তাহলে আমার মত কৃষকগুলার উপকার হত।
কুড়িগ্রাম সদরের কৃষ্ণপুর গ্রামের শহিদার রহমান বলেন,খুব বড় বন্যা না হলেও দীর্ঘদিন ধরে বন্যার পানি থাকায় আমার ৪ বিঘা জমির রোপা আমন খেত ও বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এখন সেই সময়   নেই যে নতুন ভাবে বীজ তলা করে ক্ষেত লাগাবো।
উলিপুর উপজেলার হাতিয়া গ্রামের আছিয়া বেগম বলেন, হামার অভাবী সংসার ধার দেনা করে চলি।কষ্ট করে ১ বিঘা জমিতে আমন ক্ষেত করছি।এবারের বন্যায় সেই খেত নষ্ট হয়ে গেছে। হামরা কি খেয়ে বাঁচমো তা আল্লাই জানে।
১১ নং হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আবুল হোসেন বলেন,আমার ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টর  রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমরা ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মঞ্জুরুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, রোপা আমন ও সবজি ক্ষেতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারিনি।তবে চলতি বছরের বন্যায় ৯ টি উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত,২৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ও ১৫৫ হেক্টর  বীজ তলা পানিতে নিমজ্জিত  ছিল।যা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে এ তথ্য পাঠিয়েছি।