শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টায় অসহায়ের ঘর মেরামত

দিনের সব ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমানোর জন্য একটি আবাসস্থলের প্রয়োজন সবার। পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেই এ কথাটি অত্যন্ত সত্য। সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানুষের একটি নিরাপত্তা মুলক আবাসস্থল প্রয়োজন, যেখানে সারাদিনের অবসাদ দূর করতে আশ্রয় নেবে। এই আশ্রয়স্থল মেরামত করার মতো একটি মহৎ কাজ সম্পুর্ণ করে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন।

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের গড়েয়া গ্রামে বসবাসকারী মোঃ মমিন মিয়া (মৃত দেছারত উল্লার জামাই) দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।মমিন মিয়ার একমাত্র থাকার ঘর টি গত এপ্রিল মাসের শুরুতে হঠাৎ করেই দমকা হাওয়া শুরু হয়। এই দমকা হাওয়ায় অনেকেরই অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো এবং তেমনি মমিন মিয়ারও ঘরটি ভেঙে যায়। কিন্তু টাকার অভাবে ঘরটি নিমার্ণ করতে পারে নাই। মমিন মিয়া জানান তখন থেকেই ঐ ভাঙা ঘরেই কোন মতে রাত্রি যাপন করেন।

বৃষ্টি আসলে পলিথিন কাগজ শরীরে জড়িয়ে থাকতেন। দীর্ঘ ৪ মাসেও ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্য হয়নি তার। এ বিষয়টি কর্নিয়া ফাউন্ডেশনজানতে পারলে মমিন মিয়াকে আশ্বাস দেয় যে, তার ঘরটি খুব শীঘ্রই মেরামত করার ব্যবস্থা করে দেবে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন।এ কথা মত কর্নিয়া ফাউন্ডেশন গত ৯ সেপ্টেম্বরে মমিন মিয়া কে ঘর নিমার্ণ করার জন্য যাবতীয় উপকরণ হস্তান্তর করেন ফাউন্ডেশনের বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত সভাপতি মোঃ হযরত বেলাল ( ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত)।

রোববার ১২ সেপ্টেম্বরে ঘরটি মেরামতের কাজ শেষ হয়, ঘর মেরামতের কাজটি ফাউন্ডেশনের সভাপতির উপস্থিতিতে করা হয়। মমিন মিয়া জানান যে, ঘরটি পুনরায় পেয়ে আমি খুব খুশি।এখন আর ঝড় বাদলের দিনের চিন্তা থাকল না এবং কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের জন্য দোয়া করেন।

মমিন মিয়ার ঘর মেরামত সহ অসহায় মানুষদের নানা রকম সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্যরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা সংগ্রহ করা হয় থাকে। কর্নিয়া

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কালিমুল্লা-আল কাফী( রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত) বলেন, অসহায় মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্যে আমাদের এই কর্নিয়া ফাউন্ডেশন সবসময় কাজ করে যাবে। “আমি যা পারব না, আমরা তা পারবো” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা কাজ করে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের যাত্রাকালের খুব অল্প হলেও সফলতা পেয়েছি অনেক। আর এসব সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের পরিশ্রমী সদস্যদের আত্মত্যাগের জন্য।

তিনি বলেন আমরা সাধারণত ঈদ, পুজা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাছাড়া সবসময় আমাদের নখদর্পনের মধ্যে যেকোনো প্রয়োজনে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকি। সেই সাথে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ হযরত বেলাল বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের ফাউন্ডেশনে ১৭-২০ টি জেলার থেকে সদস্যরা করতেছি, এবং ৮-১০ টি জেলায় কাজ করেছি।আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় স্বেচ্ছা সেবার কাজ করবো।

তাছাড়াও তিনি আরো জানান, আমাদের ফাউন্ডেশনের নতুন সদস্য সংগ্রহ চলছে, স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করতে আগ্রহীদের আহবান করছি। ফাউন্ডেশনের কাজ গুলো পরিচালিত হয় বিত্তশালী, চাকুরীজীবি, ছাত্র-ছাত্রীদের ডোনেশনের মাধ্যমে। তাই তিনি স্থায়িভাবে কিছু ডোনার খুজতেছেন।যারা সবসময় কর্নিয়া ফাউন্ডেশনে ডোনেশন করবে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশনঃ কর্নিয়া ফাউন্ডেশন ০৮ ই মে ২০২০ সালে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার কিছু মানুষকে সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সময়ের ব্যবধানে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশন আপনার কাছে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করে।

জনপ্রিয়

কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টায় অসহায়ের ঘর মেরামত

প্রকাশের সময়: ০৬:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

দিনের সব ক্লান্তি দূর করতে রাতে ঘুমানোর জন্য একটি আবাসস্থলের প্রয়োজন সবার। পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেই এ কথাটি অত্যন্ত সত্য। সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানুষের একটি নিরাপত্তা মুলক আবাসস্থল প্রয়োজন, যেখানে সারাদিনের অবসাদ দূর করতে আশ্রয় নেবে। এই আশ্রয়স্থল মেরামত করার মতো একটি মহৎ কাজ সম্পুর্ণ করে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন।

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের গড়েয়া গ্রামে বসবাসকারী মোঃ মমিন মিয়া (মৃত দেছারত উল্লার জামাই) দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শ্বশুর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।মমিন মিয়ার একমাত্র থাকার ঘর টি গত এপ্রিল মাসের শুরুতে হঠাৎ করেই দমকা হাওয়া শুরু হয়। এই দমকা হাওয়ায় অনেকেরই অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো এবং তেমনি মমিন মিয়ারও ঘরটি ভেঙে যায়। কিন্তু টাকার অভাবে ঘরটি নিমার্ণ করতে পারে নাই। মমিন মিয়া জানান তখন থেকেই ঐ ভাঙা ঘরেই কোন মতে রাত্রি যাপন করেন।

বৃষ্টি আসলে পলিথিন কাগজ শরীরে জড়িয়ে থাকতেন। দীর্ঘ ৪ মাসেও ঘরটি মেরামত করার সামর্থ্য হয়নি তার। এ বিষয়টি কর্নিয়া ফাউন্ডেশনজানতে পারলে মমিন মিয়াকে আশ্বাস দেয় যে, তার ঘরটি খুব শীঘ্রই মেরামত করার ব্যবস্থা করে দেবে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন।এ কথা মত কর্নিয়া ফাউন্ডেশন গত ৯ সেপ্টেম্বরে মমিন মিয়া কে ঘর নিমার্ণ করার জন্য যাবতীয় উপকরণ হস্তান্তর করেন ফাউন্ডেশনের বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত সভাপতি মোঃ হযরত বেলাল ( ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত)।

রোববার ১২ সেপ্টেম্বরে ঘরটি মেরামতের কাজ শেষ হয়, ঘর মেরামতের কাজটি ফাউন্ডেশনের সভাপতির উপস্থিতিতে করা হয়। মমিন মিয়া জানান যে, ঘরটি পুনরায় পেয়ে আমি খুব খুশি।এখন আর ঝড় বাদলের দিনের চিন্তা থাকল না এবং কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের জন্য দোয়া করেন।

মমিন মিয়ার ঘর মেরামত সহ অসহায় মানুষদের নানা রকম সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্যরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা সংগ্রহ করা হয় থাকে। কর্নিয়া

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কালিমুল্লা-আল কাফী( রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত) বলেন, অসহায় মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্যে আমাদের এই কর্নিয়া ফাউন্ডেশন সবসময় কাজ করে যাবে। “আমি যা পারব না, আমরা তা পারবো” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সদস্যরা কাজ করে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের যাত্রাকালের খুব অল্প হলেও সফলতা পেয়েছি অনেক। আর এসব সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের পরিশ্রমী সদস্যদের আত্মত্যাগের জন্য।

তিনি বলেন আমরা সাধারণত ঈদ, পুজা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাছাড়া সবসময় আমাদের নখদর্পনের মধ্যে যেকোনো প্রয়োজনে আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকি। সেই সাথে কর্নিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ হযরত বেলাল বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের ফাউন্ডেশনে ১৭-২০ টি জেলার থেকে সদস্যরা করতেছি, এবং ৮-১০ টি জেলায় কাজ করেছি।আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় স্বেচ্ছা সেবার কাজ করবো।

তাছাড়াও তিনি আরো জানান, আমাদের ফাউন্ডেশনের নতুন সদস্য সংগ্রহ চলছে, স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করতে আগ্রহীদের আহবান করছি। ফাউন্ডেশনের কাজ গুলো পরিচালিত হয় বিত্তশালী, চাকুরীজীবি, ছাত্র-ছাত্রীদের ডোনেশনের মাধ্যমে। তাই তিনি স্থায়িভাবে কিছু ডোনার খুজতেছেন।যারা সবসময় কর্নিয়া ফাউন্ডেশনে ডোনেশন করবে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশনঃ কর্নিয়া ফাউন্ডেশন ০৮ ই মে ২০২০ সালে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার কিছু মানুষকে সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। সময়ের ব্যবধানে কর্নিয়া ফাউন্ডেশন সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কর্নিয়া ফাউন্ডেশন আপনার কাছে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করে।