মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বীনের বাদশার প্রতারণায় নিঃস্ব নাজমার পরিবার

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় জ্বীনের বাদশার খপ্পড়ে পড়ে অন্তত ৭ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নাজমা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধূ। নাজমা খাতুন উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের ধনেশাহ্ পাড়ার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রতারণার স্বীকার নাজমা খাতুন জানান, গত ১২ আগস্ট মধ্যরাতে মুঠোফোনে ০১৭৯২৩৯৪৩০৯ নম্বর হতে হযরত শাহজালাল (রা.)’র পীরের মাজার থেকে ইমাম সাহেবের ফোন দিয়ে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দেয়। এসময় তিনি জানান, তোমার ভাগ্য খুলে গেছে। তোমার মত ভাগ্যবান আর কারো হয় না। তুমি ৭ হাড়ি সোনার মোহর পাবে। এজন্য দুটি কুরআন শরীফ, জায়নামাজ ও আগরবাতির নির্যাস ক্রয়ের জন্য ২হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। ঘটনার বিষয়ে সে তার স্বামীর সাথে বলে সরল বিশ্বাসে স্থানীয় ভ‚ল্লারবাজারের বিকাশের দোকান হতে ওই টাকা পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জ্বীনের বাদশা আবারও ফোনে জানায়, তোমার বাড়িতে শুকরের হাড় আছে। সেই হাড় সরাতে হবে এবং উট কুরবানী করতে হবে।

তিনি আরো জানান, তোমার বাবা-মা আগুনের পোশাক পরিধান করে আছে। এগুলোও দূর করতে হবে। এগুলো না করলে তোমার বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। এছাড়াও নানারুপ ভয়ভীতি দেখিয়ে আবাদি জমি ও বাড়ির গরু-ছাগল বিক্রি করে গত ১৩-২৯ আগস্ট পর্যন্ত ০১৮৯৪৩৫৮৪৪৯; ০১৭৬১৪৬৬৯৮৮; ০১৯০৯২৬৩৯২০; ০১৭২১৬৯৯৪৮৫ ও ০১৮৬৯৩০২০৫৯ বিকাশ নম্বরে পাকেরহাট, কাচিনীয়া ও রানীরবন্দর বাজার হতে ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। জ্বীনের বাদশা কৌশলে আমার বাড়িতে সোনার গয়না রয়েছে যা তাদের দিতে হবে এবং তারা তাদের সোনার মোহর দিবে। প্রতারক জীনের বাদশার কথা অনুযায়ী দিনাজপুরে গিয়ে ৪০হাজার টাকা ম‚ল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে তাদের এক খাদেম সোনার একটা পুতুল লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেয় এবং জানায় এ ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ হলে বা পুতুল খোলা হলে তার সন্তানের মৃত্যু হবে অথবা অন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ম‚র্তি বাড়ি নিয়ে এসে রাখার পর মোহর না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। কথিত ওই জ্বীনের বাদশার প্রতারণায় বর্তমানে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ভুক্তভোগী নাজমা খাতুনের লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয়

জ্বীনের বাদশার প্রতারণায় নিঃস্ব নাজমার পরিবার

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় জ্বীনের বাদশার খপ্পড়ে পড়ে অন্তত ৭ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নাজমা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধূ। নাজমা খাতুন উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের ধনেশাহ্ পাড়ার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রতারণার স্বীকার নাজমা খাতুন জানান, গত ১২ আগস্ট মধ্যরাতে মুঠোফোনে ০১৭৯২৩৯৪৩০৯ নম্বর হতে হযরত শাহজালাল (রা.)’র পীরের মাজার থেকে ইমাম সাহেবের ফোন দিয়ে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দেয়। এসময় তিনি জানান, তোমার ভাগ্য খুলে গেছে। তোমার মত ভাগ্যবান আর কারো হয় না। তুমি ৭ হাড়ি সোনার মোহর পাবে। এজন্য দুটি কুরআন শরীফ, জায়নামাজ ও আগরবাতির নির্যাস ক্রয়ের জন্য ২হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। ঘটনার বিষয়ে সে তার স্বামীর সাথে বলে সরল বিশ্বাসে স্থানীয় ভ‚ল্লারবাজারের বিকাশের দোকান হতে ওই টাকা পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জ্বীনের বাদশা আবারও ফোনে জানায়, তোমার বাড়িতে শুকরের হাড় আছে। সেই হাড় সরাতে হবে এবং উট কুরবানী করতে হবে।

তিনি আরো জানান, তোমার বাবা-মা আগুনের পোশাক পরিধান করে আছে। এগুলোও দূর করতে হবে। এগুলো না করলে তোমার বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। এছাড়াও নানারুপ ভয়ভীতি দেখিয়ে আবাদি জমি ও বাড়ির গরু-ছাগল বিক্রি করে গত ১৩-২৯ আগস্ট পর্যন্ত ০১৮৯৪৩৫৮৪৪৯; ০১৭৬১৪৬৬৯৮৮; ০১৯০৯২৬৩৯২০; ০১৭২১৬৯৯৪৮৫ ও ০১৮৬৯৩০২০৫৯ বিকাশ নম্বরে পাকেরহাট, কাচিনীয়া ও রানীরবন্দর বাজার হতে ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। জ্বীনের বাদশা কৌশলে আমার বাড়িতে সোনার গয়না রয়েছে যা তাদের দিতে হবে এবং তারা তাদের সোনার মোহর দিবে। প্রতারক জীনের বাদশার কথা অনুযায়ী দিনাজপুরে গিয়ে ৪০হাজার টাকা ম‚ল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে তাদের এক খাদেম সোনার একটা পুতুল লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেয় এবং জানায় এ ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ করা যাবে না। প্রকাশ হলে বা পুতুল খোলা হলে তার সন্তানের মৃত্যু হবে অথবা অন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ম‚র্তি বাড়ি নিয়ে এসে রাখার পর মোহর না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। কথিত ওই জ্বীনের বাদশার প্রতারণায় বর্তমানে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কামাল হোসেন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ভুক্তভোগী নাজমা খাতুনের লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।