রংপুরের পীরগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীতে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। এখানে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে ৩ ইউনিয়নের ১০ গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মযজ্ঞ চললেও প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে এলাকাবাসির অভিযোগ।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টম্বর) খালাশপীর জয়ন্তিপুর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, করতোয়া নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুগুলো স্তুপ করে রাখা হয়েছে নদীর পাড়ে। সেগুলো ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এছাড়াও, জয়ন্তিপুর নব-নির্মিত সেতু ও কাচদহ্ ওয়াজেদ মিয়া সেতু’র পাশসহ গোটা উপজেলার প্রায় ৫৮টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে চতরা ইউনিয়নের কুমারপুর, মাটিয়াল পাড়া, কুয়াতপুর, পার কুয়াতপুর, আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশ পুকুরিয়া, তাঁতারপুর, শিমুলবাড়ী ও টুকুরিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তিপুর, বিছানা, পার বোয়ালমারী ও সুজারকুটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করছে না বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করছেন। এলাকাবাসী তাদের জমি, বাড়ীঘর এবং রাস্তা রক্ষায় বারংবার প্রতিবাদ করলেও উল্টো বালুখেকোরা হুমকি-ধামকি এমনকি মারপিটও করেছে।
আব্দুর রহমান নামে একজন স্থানীয় বলেন, করতোয়া নদীর জয়ন্তিপুর ঘাটে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। আমরা প্রভাবশালীদের কাছে অসহায়।
বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ রেজাউল ইসলাম বলেন, নদী হতে বালু উত্তোলনের ফলে আমার ফসলী জমি নদীতে ভেঙে গেছে। আমার মত প্রায় শতাধিক মানুষ নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
কয়েকজন স্থানীয় বলেন, খালাশপীর জয়ন্তিপুর ঘাট হতে নিষিদ্ধ ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক দিয়ে অবৈধ বালু বহন করা হচ্ছে। এরফলে ভেঙে যাচ্ছে স্থানীয় রাস্তাগুলো। ফাটল দেখা দিয়েছে পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে। কিন্তু, প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই।
কয়েকজন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কয়েকজন অবৈধ বালু উত্তোলনকারী বলেন, আমরা বালু উত্তোলন করিনি। গত বছরের বালু উত্তোলন করা ছিল সেগুলো বিক্রি করেছি। অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি নেই। আমরা বালুগুলো অপসারণ করেছি মাত্র। আমি আর অবৈধ বালুর সাথে সম্পৃক্ত নেই।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার বিরোদা রানী রায় বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নদীপাড়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি।
সরকার বেলায়েত, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পীরগঞ্জ (রংপুর) 


















