সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা

দিনাজপুরের খানসামায় ভুল্লির নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটিই নদীর দুই পাশের লোকজনের চলাচলের একমাত্র ভরসা। উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের ভুল্লির বাজারে ভুল্লির নদীর ওপরের সেতুটি ২০১৭ সালে ভেঙ্গে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। এতে নীলফামারী সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের লোকজনের। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভাঙ্গা সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করে আসছেন। প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার মানুষ হেঁটে,  রিকশাভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় উৎপত্তি হওয়া করতোয়া নদীর একটি শাখা নদী হচ্ছে ভূল্লি নদী। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে পূর্ব তীরে নীলফামারীর খোকশাবাড়ি ও পশ্চিম তীরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রাম অতিক্রম করে দুই জেলাকে নদীটি বিভক্ত করেছে।

জানা গেছে, ৬ বছর পূর্বে বন্যায় সেতুটি ভেঙ্গে যায়। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার পাশে স্থানীয় লোকজন চলাচলের জন্য চাঁদা তুলে নির্মাণ করেন একটি বাঁশের সাঁকো। ছোট্ট সাঁকোটি দিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসল পরিবহন করতে সমস্যা হয়। প্রায় দেড় বছর আগে বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে মোটরসাইকেলসহ পারাপারের সময় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান জনৈক এক ব্যক্তি। নদীর ওপর ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি মূলত নীলফামারী সদর ও খানসামা উপজেলার মানুষসহ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলের এবং যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতু। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এখানকার লোকজনদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, বিরিজ (ব্রিজ) ভেঙ্গে যাওয়ায় হামার (আমাদের) অনেক অসুবিধা হইসে (হয়েছে)। এইঠে (এখানে) মেলা (অনেক) অ্যাক্সিডেন্ট (দূর্ঘটনা) হইছে (হয়েছে)। অনেকে আহত হইছে। হামার এই সেতুটা খুব প্রয়োজন। সরকারের কাছে আবেদন করি তাড়াতাড়ি বিরিজটা যেন করে দেন।

স্থানীয় মফিজ আলী বলেন, এ সাঁকো থেকে প্রায়ই মানুষ ও গবাদিপশু পড়ে যায়। অনেক সময় রাতে চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। গ্রামের মানুষের জন্য সেতুটা মেরামত করা খুবই দরকার।। এলাকার অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, সরকার রাস্তাঘাটের এত উন্নয়ন করছে। সব রাস্তায় সেতু নির্মাণ হয়। খানসামা উপজেলাবাসীর জন্য একটি সড়ক হলেও তাতে আজ সেতুর অভাবে যাতায়াতে কষ্ট করতে হচ্ছে। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। সেতুটি মেরামত বা নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে সকল মানুষকে চলাচলে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফের সচল রাখতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। বিকল্প বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটছে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সেতুটি নির্মাণ করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা

প্রকাশের সময়: ১২:২১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৩

দিনাজপুরের খানসামায় ভুল্লির নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটিই নদীর দুই পাশের লোকজনের চলাচলের একমাত্র ভরসা। উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের ভুল্লির বাজারে ভুল্লির নদীর ওপরের সেতুটি ২০১৭ সালে ভেঙ্গে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। এতে নীলফামারী সদর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের লোকজনের। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভাঙ্গা সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করে আসছেন। প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার মানুষ হেঁটে,  রিকশাভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় উৎপত্তি হওয়া করতোয়া নদীর একটি শাখা নদী হচ্ছে ভূল্লি নদী। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে পূর্ব তীরে নীলফামারীর খোকশাবাড়ি ও পশ্চিম তীরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পূর্ব বাসুলী গ্রাম অতিক্রম করে দুই জেলাকে নদীটি বিভক্ত করেছে।

জানা গেছে, ৬ বছর পূর্বে বন্যায় সেতুটি ভেঙ্গে যায়। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার পাশে স্থানীয় লোকজন চলাচলের জন্য চাঁদা তুলে নির্মাণ করেন একটি বাঁশের সাঁকো। ছোট্ট সাঁকোটি দিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসল পরিবহন করতে সমস্যা হয়। প্রায় দেড় বছর আগে বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে মোটরসাইকেলসহ পারাপারের সময় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান জনৈক এক ব্যক্তি। নদীর ওপর ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি মূলত নীলফামারী সদর ও খানসামা উপজেলার মানুষসহ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলের এবং যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতু। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এখানকার লোকজনদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, বিরিজ (ব্রিজ) ভেঙ্গে যাওয়ায় হামার (আমাদের) অনেক অসুবিধা হইসে (হয়েছে)। এইঠে (এখানে) মেলা (অনেক) অ্যাক্সিডেন্ট (দূর্ঘটনা) হইছে (হয়েছে)। অনেকে আহত হইছে। হামার এই সেতুটা খুব প্রয়োজন। সরকারের কাছে আবেদন করি তাড়াতাড়ি বিরিজটা যেন করে দেন।

স্থানীয় মফিজ আলী বলেন, এ সাঁকো থেকে প্রায়ই মানুষ ও গবাদিপশু পড়ে যায়। অনেক সময় রাতে চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। গ্রামের মানুষের জন্য সেতুটা মেরামত করা খুবই দরকার।। এলাকার অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, সরকার রাস্তাঘাটের এত উন্নয়ন করছে। সব রাস্তায় সেতু নির্মাণ হয়। খানসামা উপজেলাবাসীর জন্য একটি সড়ক হলেও তাতে আজ সেতুর অভাবে যাতায়াতে কষ্ট করতে হচ্ছে। অথচ এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। সেতুটি মেরামত বা নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে সকল মানুষকে চলাচলে নানা দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফের সচল রাখতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবরে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। বিকল্প বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটছে। আশা করা যায় খুব শীঘ্রই সেতুটি নির্মাণ করা হবে।