রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সেজে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সেজে দায়িত্ব পালন করা অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির শিক্ষক দবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দাখিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, ঢাকায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর আঞ্চলিক পরিচালককে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। তবে এই তদন্ত কার্য্য এখনো অুনষ্ঠিত না হওয়ায় কলেজে নানা বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে।

দাখিলকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৪ সালে কারিগরি শাখা ও ২০০৫ সালে সাধারণ শাখা এমপিওভূক্ত হয়। সেই সময়ে কারিগরি ও সাধারণ শাখা আলাদা হয়ে গেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ড্যাস বোর্ডে মো. জাকির হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত দেখানো হয়। যার ইনডেক্স নম্বর- আর ৩০০২৮৪৭ এবং একই সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি মো. এনামুল হকও অনÍর্ভূক্ত হয়েছেন। যার ইনডেক্স নম্বর- আর ৩০৭৭৭৫৯। এরপর ইনডেক্সধারী ওই অধ্যক্ষ তিনি চাকরি হতে ইস্তফা দিয়ে চলে গেছেন। এদিকে মনগড়াভাবে কলেজের ইনডেক্সবিহীন শিক্ষক দবির উদ্দিন কোন বিধি না মেনে নিজেই অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সাজিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ইতোমধ্যে কলেজের বিল-ভাতা ও অন্যান্য কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। শুধু তায় নয়, অভিযুক্ত এই দবির উদ্দিন কলেজের সমস্ত রেজুলেশন খাতা ও শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য বেআইনীভাবে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তার ইনডেক্সসহ অভিজ্ঞতা না থাকলেও অহেতুকভাবে অধ্যক্ষ সেজেছেন।

জানা যায়, বিধি অনুযায়ী কলেজ অধ্যক্ষ না থাকলে সিনিয়র প্রভাষক হবেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। বর্তমানে কলেজটির ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৭ জনের পিডিএস আইডি রয়েছে। এখন অন্যান্যদের কাগজপত্র না দেওয়ায় পিডিএস আইডি রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। তার এমন কার্যকলাপে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষুব্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে শিক্ষাক্রম।

অপনদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৫ আগস্ট তারিখের পত্রে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে রংপুর আঞ্চলিক পরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেটি আজও তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজের প্রভাষক আইয়ুব আলী বলেন, দবির উদ্দিন বিধিবহির্ভূত ভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি মোটেও কাম্য নয়। এই ব্যাপারটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে সামাধা দেওয়া দরকার। যেহেতু অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন ইস্তফা দিয়েছেন তাই পিডিআইএস সম্পন্ন সিনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের জন্য দাবি করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দবির উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই অভিযোগ কই পেলেন। আপনি আমার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলেন।

জনপ্রিয়

পাবনা-ঢাকা ট্রেন চলাচল আগস্টে চালু হচ্ছে : রেল ও সেতুমন্ত্রী

ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সেজে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০১:৩৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সেজে দায়িত্ব পালন করা অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির শিক্ষক দবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দাখিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, ঢাকায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর আঞ্চলিক পরিচালককে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। তবে এই তদন্ত কার্য্য এখনো অুনষ্ঠিত না হওয়ায় কলেজে নানা বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে।

দাখিলকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৪ সালে কারিগরি শাখা ও ২০০৫ সালে সাধারণ শাখা এমপিওভূক্ত হয়। সেই সময়ে কারিগরি ও সাধারণ শাখা আলাদা হয়ে গেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ড্যাস বোর্ডে মো. জাকির হোসেনকে অধ্যক্ষ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত দেখানো হয়। যার ইনডেক্স নম্বর- আর ৩০০২৮৪৭ এবং একই সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি মো. এনামুল হকও অনÍর্ভূক্ত হয়েছেন। যার ইনডেক্স নম্বর- আর ৩০৭৭৭৫৯। এরপর ইনডেক্সধারী ওই অধ্যক্ষ তিনি চাকরি হতে ইস্তফা দিয়ে চলে গেছেন। এদিকে মনগড়াভাবে কলেজের ইনডেক্সবিহীন শিক্ষক দবির উদ্দিন কোন বিধি না মেনে নিজেই অবৈধভাবে অধ্যক্ষ সাজিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ইতোমধ্যে কলেজের বিল-ভাতা ও অন্যান্য কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। শুধু তায় নয়, অভিযুক্ত এই দবির উদ্দিন কলেজের সমস্ত রেজুলেশন খাতা ও শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য বেআইনীভাবে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তার ইনডেক্সসহ অভিজ্ঞতা না থাকলেও অহেতুকভাবে অধ্যক্ষ সেজেছেন।

জানা যায়, বিধি অনুযায়ী কলেজ অধ্যক্ষ না থাকলে সিনিয়র প্রভাষক হবেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। বর্তমানে কলেজটির ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৭ জনের পিডিএস আইডি রয়েছে। এখন অন্যান্যদের কাগজপত্র না দেওয়ায় পিডিএস আইডি রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। তার এমন কার্যকলাপে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষুব্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে শিক্ষাক্রম।

অপনদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৫ আগস্ট তারিখের পত্রে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে রংপুর আঞ্চলিক পরিচালককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেটি আজও তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজের প্রভাষক আইয়ুব আলী বলেন, দবির উদ্দিন বিধিবহির্ভূত ভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি মোটেও কাম্য নয়। এই ব্যাপারটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে সামাধা দেওয়া দরকার। যেহেতু অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন ইস্তফা দিয়েছেন তাই পিডিআইএস সম্পন্ন সিনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের জন্য দাবি করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দবির উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই অভিযোগ কই পেলেন। আপনি আমার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলেন।