মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকের ধান কর্তন শুরু করে দিলেন প্রশাসন

নানা প্রতিকুল পেরিয়ে গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা- মাড়াইয়ের কাজ। এ বছরে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার কৃষক-শ্রমিকরা।  সম্প্রতি গাইবান্ধার ভাতগ্রাম ইউনিয়নে সমলয়ে চাষাবাদে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কর্তন উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে গাইবান্ধার কৃষকরা আবহাওয়ার প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে।চারা রোপণের বেশীরভাগ সময়ে খরার কবলে পড়ছিলেন। এমন প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়। এরপর পানির অভাবে চরম ব্যাহত হয়েছে এই চাষাবাদ। এরই মধ্যে পোকা-ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দেয়। এভাবে নানা ধকল সামলিয়ে আশানুরূপ ফলন ঘরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশীয় জাতের ধান কাটতে শুরু করছে কৃষক।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ সাড়ে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, জীবন-জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে এ বছর বাড়তি খরচ মাথায় নিয়ে আমন আবাদে নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

গোবিন্দগঞ্জের কৃষক সাদা মিয়া  জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ বছর দেড় একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে খরা আর বুষ্টির পানি কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। কৃত্রিম সেচ দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছি। ইতোমধ্যে ধানা কাটা শুরু করা হয়েছে। আশা করি ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবো।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া বলেন, চারা রোপণে খরার প্রভাবে আমরা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে সেচ ইউনিট চালু করে আমন চারা রোপনের পরামর্শ ও বাস্তবায়ন করেছি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেট-কে জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। এতে করে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন কৃষক।

কৃষকের ধান কর্তন শুরু করে দিলেন প্রশাসন

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

নানা প্রতিকুল পেরিয়ে গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা- মাড়াইয়ের কাজ। এ বছরে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার কৃষক-শ্রমিকরা।  সম্প্রতি গাইবান্ধার ভাতগ্রাম ইউনিয়নে সমলয়ে চাষাবাদে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কর্তন উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে গাইবান্ধার কৃষকরা আবহাওয়ার প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছে।চারা রোপণের বেশীরভাগ সময়ে খরার কবলে পড়ছিলেন। এমন প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়। এরপর পানির অভাবে চরম ব্যাহত হয়েছে এই চাষাবাদ। এরই মধ্যে পোকা-ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দেয়। এভাবে নানা ধকল সামলিয়ে আশানুরূপ ফলন ঘরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশীয় জাতের ধান কাটতে শুরু করছে কৃষক।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ সাড়ে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, জীবন-জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে এ বছর বাড়তি খরচ মাথায় নিয়ে আমন আবাদে নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

গোবিন্দগঞ্জের কৃষক সাদা মিয়া  জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ বছর দেড় একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে খরা আর বুষ্টির পানি কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। কৃত্রিম সেচ দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করেছি। ইতোমধ্যে ধানা কাটা শুরু করা হয়েছে। আশা করি ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবো।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া বলেন, চারা রোপণে খরার প্রভাবে আমরা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে সেচ ইউনিট চালু করে আমন চারা রোপনের পরামর্শ ও বাস্তবায়ন করেছি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জাগো২৪.নেট-কে জানান, চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। এতে করে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন কৃষক।