দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বধ্যভূমির গাছের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে শহীদ পরিবার, খানসামা ডিগ্রি কলেজ ও স্থানীয়রা।
গত ৯ বছর ধরে সেখানে অস্থায়ী বাঁশের বেড়ার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানালেও তা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এ বছর সেখানকার গাছে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় খানসামা ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে পুলহাটে ইছামতি নদীর তীরে অসংরক্ষিত বধ্যভূমিতে জাতীয় বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষ্যে শহীদদের স্মরণে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সদস্য বাবু অমিয় কুমার গুহ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া টেডি ডাক্তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী খুট্টু মিয়াকে পুলহাটে ইছামতি নদীর ধারে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় পাকবাহিনীর সদস্যরা। পরে স্থানীয় তরনীকান্ত, নজরুল ইসলামসহ অনেকে তাদের মরদেহ নদী থেকে তুলে এনে সেখানে কবরস্থ করেন। শহীদদের উদ্ধার করে কবরস্থ করা নজরুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অমানবিকভাবে নির্যাতন করে অমিয় বাবু, টেডি ডাক্তার, খুট্টু মিয়াসহ কয়েকজনকে এখানে হত্যা করে পাকবাহিনীর সদস্যরা। সেই স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। কিন্তু এ স্মৃতিময় স্থান সংরক্ষণে আজও কোনো উদ্যোগ নেই। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট ও বেদনাদায়ক।
অমিয় কুমার গুহের দৌহিত্র্য উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ কুমার গুহ জানান, গণকবর সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার হিসেবে আমাদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর অনুরোধ রইলো।
খানসামা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মাতৃভূমিকে হানাদার পাকবাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্ন গণকবর তিনটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে খানসামা উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে এ বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণ ও সংস্কার করার দাবি জানান।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 





















