মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কংক্রীটের রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারের ধীরগতির কাজের ফলে চলাচলকারী যানবাহন-পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
সরজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায়, ঠিকাদার অর্ধেক রাস্তা ঢালাই দিয়ে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও ধীরগতির কাজের ফলে সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। উপজেলার ঘুঘুরাতলীবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, যেখানে ঘুঘুরাতলীবাজরে ১ মাসে রাস্তার উভয়পাশে কাজ শেষ করা সম্ভব। সেখানে গত ৬ মাস ধরে একপাশে একটু কাজ করে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়ে গিয়েছে। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম রাস্তা ঘুঘরাতলীবাজার ও মোড়। এখানে ১১টি উন্নতমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার অন্তত ১২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী আবাসিক থেকে পড়াশোনা করছেন। প্রতি সপ্তাহে অভিভাবকরা কেউ গাড়ি নিয়ে ও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে এখানে আসেন এবং প্রচুর লোক সমাগম হয়ে থাকে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। থানা পুলিশ দিয়ে যানজট খুলতে প্রায় ঘন্টা দুয়েক সময় লেগে যায়। অভিভাবকদের অবর্ননীয় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। আমরা ব্যবস্যায়ীরাও চরম দুর্ভোগের শিকার। একই অবস্থা বেলতলীবাজারেরও।
অটোচালক মোকলেছুর রহমান জানান, রাস্তার একপাশে অল্প কয় মিটার ঢালাই দিয়ে ঠিকাদার আর আসেনি। বাকি অর্ধেক রাস্তায় বৃষ্টির পানির কারণে গর্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওই অবস্থায় আমাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। একই কথা বলেন রিকশাভ্যানচালক আশফাকুর রহমান বাবু, দুলাল হোসেন ও ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান।
আমেনা-বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ভাঙ্গাচোরা কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়। তখন আর ক্লাসে মন বসে না। ওই অবস্থায় সারাদিন ক্লাস করে বাড়িতে ফিরতে হয়। আমরা দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।
বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুবা মোরশেদ মিমু বলেন, রাস্তার ধীরগতির কাজের কারণে আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। দ্রুত কাজ শেষ করা না হলে আমরা সড়ক অবরোধ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পিএফজি গ্রুপের চিরিরবন্দর উপজেলা সমন্বয়কারী মোরশেদ উল আলম বলেন-ঠিকাদারের গাফিলতি, অল্পসংখ্যক লোক ও ধীরগতির কাজের ফলে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদার ইচ্ছা করলেই দ্রুত কাজটি শেষ করা সম্ভব। পিএফজি গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে এব্যাপারে কঠোর দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ কে এম শরীফুল হক বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ও হচ্ছে। এ কাজটি উপজেলার আওতাভূক্ত নয়। যানজট এড়াতে ৬ জন আনসার সদস্য দেয়া হয়েছে।
কাজটি শেষ কবে করা হবে এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারের লোকজনসহ কাউকে পাওয়া যায়নি।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 
















