গত কয়েক দিন ধরে দিনাজপুর জেলায় তীব্র দাবদাহ ও বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। পাশাপাশি অনেক ফসলি জমির মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে আমন চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে হাসি ফুটেছে চিরিরবন্দর উপজেলার চাষিদের মুখে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বৃষ্টিপাত হয়। এতে জনজীবনে স্বস্তি নেমে আসে। কৃষি ফসলের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে।
জানা গেছে, কৃষির জন্য এ উপজেলার মাটি খুবই উর্বর। ধান, পাট, লিচু, আমের পাশাপাশি এখানে প্রচুর পরিমাণে সবজির উৎপাদন হয়ে থাকে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষি নির্ভর। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র দাবদাহ চলছে। গরমে জনজীবন অসহনীয় হয়ে পড়ার সঙ্গে ফসলি জমির মাঠ নিয়ে কৃষকেরা অস্বস্থিতে পড়েন। তাপদাহে অনেক এলাকায় আমনের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে জমিতে সেচ দিচ্ছিলেন। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে অনেক কৃষক বাড়তি সেচ খরচ থেকে রেহাই পেয়েছেন। স্বস্তির বৃষ্টি ফসলের জন্য আর্শীবাদ হয়ে দেখা দেয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো ধরণের ফসল উৎপাদনের জন্য এখানকার মাটির জুড়ি নেই। এখানকার কৃষকেরা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। গতানুগতিক ধান, গম, পাটের পাশাপাশি এখানকার কৃষকেরা উচ্চ মূল্যের ফলমূল ও সবজি চাষে প্রতিনিয়ত কৃষিকে সমৃদ্ধ করছে। আগাম জাতেন সবজি চাষে বাজিমাত করেছেন অনেক চাষি। উপজেলায় লাউ, করলা, ছিম, চিচিংগা, ঝিঙা, কাঁচামরিচ, কচুরলতিসহ নানা জাতীয় সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এসব সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। অনেক জমির ধান বের হতে শুরু করেছে। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। অবশেষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও রাতে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা স্বস্তি পেয়েছেন। জমি পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় সেচের প্রয়োজন পড়ছে না। এসময়ের বৃষ্টি ফসলি জমির জন্য খুবই উপকারী। এতে অনেক পোকা-মাকড়ও বিনাশ হয়েছে।
উপজেলারর নশরতপুর গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, তীব্র গরমের কারণে আমনের জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টিতে অনেক উপকার হয়েছে। জমিতে বাড়তি সেচ না লাগায় আর্থিকভাবে সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি এই বৃষ্টিতে জমিতে আক্রমণ করা অনেক পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রেহাই মিলেছে।
উপজেলার সাতনালা গ্রামের চাষি আপন মুর্খাজী, নশরতপুর গ্রামের রঞ্জন সরকার, রানীপুর গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, টানা তাপদাহে সবজি বাগানগুলো শুকিয়ে যাচ্ছিল। বৃষ্টি হওয়ায় সবজি বাগানের জন্য খুব উপকার হয়েছে।
উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি ফসলের জন্য খুবই উপকার বয়ে এনেছে। ধানি ফসলসহ অন্যান্য ফসলের জন্যও এই বৃষ্টিটা প্রয়োজন ছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, সবেমাত্র ধানে থোর আসা শুরু করেছে। থোর থেকে ফুল হওয়া অর্থাৎ ধানের দানা শক্ত হওয়া পর্যন্ত পানি অত্যাবশকীয়। একেবারে সঠিক সময়ে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হয়েছে। এতে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছি।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 


















