রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে গ্রাহক দিশেহারা 

গত কয়েকদিন ধরে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তার মধ্যেই চলছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। তার ওপর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল। এ দুইয়ে মিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র খানসামা উপজেলার হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।
জানা গেছে, গত দুই মাসের বিল এবং চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে হিসাব মিলছে না অধিকাংশ গ্রাহকের। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেয়েও কয়েকগুণ বেশি বিল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র আওতায় খানসামা সাব জোনাল অফিসের গ্রাহক সংখ্যা ৪০ হাজার। এ উপজেলায় সাড়ে ছয় মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ পাচ্ছে সাড়ে তিন মেগাওয়াট।
গ্রাহকদের অভিযোগ মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, সিস্টেম লসসহ নানা বাহানায় নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ বিল। এমনকি তীব্র গরমে বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও মাস শেষে দিতে হচ্ছে মাত্রারিক্ত বিল। দিনে ৮-১০ বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ঠিক মতো বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম। বেশি বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিল দিতে আসা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, একে তো ‘লোডশেডিং’ তার উপরে ‘ভুতুড়ে’ বিল। আমি কয়েক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছি। এবার অনেক বিল বেশি এসেছে। যা বলার বাইরে। এমনিতেই যে পরিমান লোডশেডিং তার ওপর বাড়তি বিল।
চাকুরিজীবী মাহবুব রহমান বলেন, এ মাসে খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এর আগের মাসগুলোতে বিল আসে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এবার বিদ্যুতের বিল এসেছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়াও আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর বিদ্যুৎ বিল আসতো সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকা। এবার এ মাসে এসেছে ৪ হাজার ২০০ টাকা। এত বাড়তি বিল নিয়ে আমরা যাব কোথায়? বিলিং শাখায় গেলে বলে আপনারা ঠিকই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে আমরা বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।
কৃষক মিলন রায় বলেন, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা আমরা সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমি গত আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ বিল দিয়েছি ৪৪৫ টাকা এবয় জুলাই মাসে ২০১ টাকা। কিন্তু এবার এসেছে ৭৬০ টাকা। প্রতিনিয়ত যদি এভাবে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পেতেই থাকে তাহলে আমরা বিপাকে পড়ে যাবো।
এ ব্যাপারে খানসামা সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইখতিয়ার আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং জাতীয় সমস্যা ছিল, এখনো আছে। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ হলো বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এখন তা চালু হয়েছে। তা চালু হওয়ায় অনেকটাই লোডশেডিং কমে গেছে। মিটার রিডারদের কোন কারণে মিটার রিডিং করতে ভুল হয় সেক্ষেত্রে বিল কম-বেশি হয়। মিটার নিয়ে একটা জটিলতা তো আছেই। বর্তমানে মিটারের মান খারাপ। মিটারের সমস্যার কারণে বিল বেশি আসতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে আমরা মিটার টেস্ট করি। মিটার টেস্ট করে বিল সমন্বয় করে থাকি। এছাড়া মিটার রিডার যদি ভুল করে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
জনপ্রিয়

খানসামায় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে গ্রাহক দিশেহারা 

প্রকাশের সময়: ০৯:০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গত কয়েকদিন ধরে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তার মধ্যেই চলছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। তার ওপর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল। এ দুইয়ে মিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র খানসামা উপজেলার হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।
জানা গেছে, গত দুই মাসের বিল এবং চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে হিসাব মিলছে না অধিকাংশ গ্রাহকের। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেয়েও কয়েকগুণ বেশি বিল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১’র আওতায় খানসামা সাব জোনাল অফিসের গ্রাহক সংখ্যা ৪০ হাজার। এ উপজেলায় সাড়ে ছয় মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ পাচ্ছে সাড়ে তিন মেগাওয়াট।
গ্রাহকদের অভিযোগ মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, সিস্টেম লসসহ নানা বাহানায় নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ বিল। এমনকি তীব্র গরমে বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও মাস শেষে দিতে হচ্ছে মাত্রারিক্ত বিল। দিনে ৮-১০ বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ঠিক মতো বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম। বেশি বিপাকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিল দিতে আসা হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, একে তো ‘লোডশেডিং’ তার উপরে ‘ভুতুড়ে’ বিল। আমি কয়েক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছি। এবার অনেক বিল বেশি এসেছে। যা বলার বাইরে। এমনিতেই যে পরিমান লোডশেডিং তার ওপর বাড়তি বিল।
চাকুরিজীবী মাহবুব রহমান বলেন, এ মাসে খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এর আগের মাসগুলোতে বিল আসে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এবার বিদ্যুতের বিল এসেছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়াও আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর বিদ্যুৎ বিল আসতো সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকা। এবার এ মাসে এসেছে ৪ হাজার ২০০ টাকা। এত বাড়তি বিল নিয়ে আমরা যাব কোথায়? বিলিং শাখায় গেলে বলে আপনারা ঠিকই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে আমরা বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।
কৃষক মিলন রায় বলেন, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা আমরা সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আমি গত আগস্ট মাসে বিদ্যুৎ বিল দিয়েছি ৪৪৫ টাকা এবয় জুলাই মাসে ২০১ টাকা। কিন্তু এবার এসেছে ৭৬০ টাকা। প্রতিনিয়ত যদি এভাবে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পেতেই থাকে তাহলে আমরা বিপাকে পড়ে যাবো।
এ ব্যাপারে খানসামা সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. ইখতিয়ার আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিং জাতীয় সমস্যা ছিল, এখনো আছে। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ হলো বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এখন তা চালু হয়েছে। তা চালু হওয়ায় অনেকটাই লোডশেডিং কমে গেছে। মিটার রিডারদের কোন কারণে মিটার রিডিং করতে ভুল হয় সেক্ষেত্রে বিল কম-বেশি হয়। মিটার নিয়ে একটা জটিলতা তো আছেই। বর্তমানে মিটারের মান খারাপ। মিটারের সমস্যার কারণে বিল বেশি আসতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে আমরা মিটার টেস্ট করি। মিটার টেস্ট করে বিল সমন্বয় করে থাকি। এছাড়া মিটার রিডার যদি ভুল করে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি।