রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় হয়ে গেলো দিনব্যাপী দূর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস মেলা

ভৌগলিক কারণেই গাইবান্ধা দূর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার মানুষ সংগ্রাম করে বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে। এসব প্রতিকূল অবস্থায় ঝুঁকি হ্রাস, জানমালের ক্ষতি নিরসনে করণীয়সহ জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও দিনব্যাপি হয়ে গেলো দূর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস মেলা।

এসকেএস ফাউন্ডেশন ও কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা। যেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আসতে দেখা যায় শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শণার্থীদের। এ মেলায় স্থান পেয়েছে সরকারি, বে-সরকারি ১৮টি স্টল। যেখানে প্রদর্শিত হয় দূর্যোগপূর্ণ যেকোনো পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ও জানমালের ক্ষতি নিরসনে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

এছাড়া বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার, তথ্য, প্রদর্শনী দেখে দূর্যোগ মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও কিভাবে পরস্পরকে সহায়তা করে দুর্ভোগ কমানো যায়, সেই সম্পর্কিত ধারণা পেয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষরা।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মতবিনিময় করেন স্বেচ্ছাসেবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস- এর উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোয়ার সোহেল জানান, গাইবান্ধায় দূর্যোগ মোকাবিলায় কমিউনিটি মানুষের ভূমিকা, নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কেয়ার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ময়নুদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামনের বছরগুলোতে দুর্যোগের কবলে পড়বে বেশির ভাগ মানুষ। এজন্য দক্ষিণবঙ্গের সাইক্লোন প্রিপারেশন প্রোগ্রাম- সিপিপি’র মতো উত্তরাঞ্চলেও ফ্ল্যাড প্রিপারেশন প্রোগ্রাম- এফপিপি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যারা বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের আগে ভুক্তভুগিদের পূর্বপ্রস্তুতিসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া, বন্যাকালীন সময়ে কিভাবে সবজি, খাদ্য, শিশুসহ বয়স্কদের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছায় কাজ করবেন। এসময় সভাপতির বক্তব্যে স্বেচছাসেবকদের এ ধরণের কাজের প্রশংসা করেন জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা মো.শফিকুল ইসলাম। এরপর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

শেষে মেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গাইবান্ধা বিভিন্ন দূর্যোগে কিভাবে জানমালের ক্ষতি কমানো সম্ভব এ সম্পর্কিত মহড়া প্রদর্শন করে। এছাড়াও মঞ্চস্থ হয় এ বিষয়ক নাটক।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন

গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেওয়ান মওদুদ আহমেদ।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় হয়ে গেলো দিনব্যাপী দূর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস মেলা

প্রকাশের সময়: ০৯:০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ভৌগলিক কারণেই গাইবান্ধা দূর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার মানুষ সংগ্রাম করে বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে। এসব প্রতিকূল অবস্থায় ঝুঁকি হ্রাস, জানমালের ক্ষতি নিরসনে করণীয়সহ জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও দিনব্যাপি হয়ে গেলো দূর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস মেলা।

এসকেএস ফাউন্ডেশন ও কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে এ মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা। যেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আসতে দেখা যায় শিশু, বয়স্কসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শণার্থীদের। এ মেলায় স্থান পেয়েছে সরকারি, বে-সরকারি ১৮টি স্টল। যেখানে প্রদর্শিত হয় দূর্যোগপূর্ণ যেকোনো পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ও জানমালের ক্ষতি নিরসনে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

এছাড়া বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার, তথ্য, প্রদর্শনী দেখে দূর্যোগ মোকাবেলায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও কিভাবে পরস্পরকে সহায়তা করে দুর্ভোগ কমানো যায়, সেই সম্পর্কিত ধারণা পেয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষরা।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মতবিনিময় করেন স্বেচ্ছাসেবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামস- এর উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোয়ার সোহেল জানান, গাইবান্ধায় দূর্যোগ মোকাবিলায় কমিউনিটি মানুষের ভূমিকা, নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কেয়ার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ময়নুদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামনের বছরগুলোতে দুর্যোগের কবলে পড়বে বেশির ভাগ মানুষ। এজন্য দক্ষিণবঙ্গের সাইক্লোন প্রিপারেশন প্রোগ্রাম- সিপিপি’র মতো উত্তরাঞ্চলেও ফ্ল্যাড প্রিপারেশন প্রোগ্রাম- এফপিপি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যারা বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের আগে ভুক্তভুগিদের পূর্বপ্রস্তুতিসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া, বন্যাকালীন সময়ে কিভাবে সবজি, খাদ্য, শিশুসহ বয়স্কদের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছায় কাজ করবেন। এসময় সভাপতির বক্তব্যে স্বেচছাসেবকদের এ ধরণের কাজের প্রশংসা করেন জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা মো.শফিকুল ইসলাম। এরপর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

শেষে মেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গাইবান্ধা বিভিন্ন দূর্যোগে কিভাবে জানমালের ক্ষতি কমানো সম্ভব এ সম্পর্কিত মহড়া প্রদর্শন করে। এছাড়াও মঞ্চস্থ হয় এ বিষয়ক নাটক।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন

গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেওয়ান মওদুদ আহমেদ।