আফসানা আক্তার মিমি: দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে দেবীর আগমনী বার্তা। তাই তো দেবী বন্দনার প্রস্তুতির দেখা মিলছে গাইবান্ধার মন্দির-মন্ডপে।
এই উৎসব ঘিরে দূর্গাকে বর্ণিল সাজে সাজাতে নিজেদের হাতের কারুকাজ দেখাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। অন্যান্য সময় তেমন কাজ না থাকলেও এই উৎসবকে ঘিরে দম ফেলানোর যেনো ফুসরত নেই তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়- গাইবান্ধা শহরের বড় কালিবাড়ি মন্দির, শনি মন্দির, ব্রীজরোড কালিবাড়ির শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, কালি মন্দির, ডেভিড কোম্পানি পাড়া দূর্গা মন্দির, মধ্যপাড়াসহ বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ।
যেখানে কোনো কোনো মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ, কোথাও আবার কাজ শেষে শুকানো হচ্ছে প্রতিমাগুলো। এরমধ্যে গাইবান্ধা পৌরসভার শনি মন্দিরে দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মালাকার বাদল চন্দ্র বিশ্বাস ও ববিতা রানী দম্পতি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই কাজ করছেন তারা।
ব্রীজরোড কালিবাড়ির মন্দিরেও কাজ করছেন স্থানীয় মালাকাররা। তবে, অন্য মন্দিরগুলোতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বড় কালিবাড়ি মন্দিরের দেবী প্রতিমা তৈরি করেছেন টাঙ্গাইল থেকে আগত মৃৎশিল্পীরা। যাদের পারিশ্রমিক দেয়া হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। মধ্যপাড়া পূজামন্ডপেও দেখা মেলে লালমনিরহাট জেলার তিস্তাপাড়ের মালাকার বিশ্বজিৎ রায় ও তার সঙ্গীদের। যাদের পারিশ্রমিক ১ লাখ টাকা।
এসব মৃৎশিল্পী শুধু গাইবান্ধা নয়, এই মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘরে শৈল্পিক নৈপুণ্যে সাজান দেবী দূর্গাকে। অন্যদিকে, জেলার কিছু স্থানীয় মালাকার রয়েছেন যারা বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ডার নিয়ে তৈরি করেন এসব প্রতিমা। বছরের অন্য সময়গুলোতে তেমন কোনো কাজ না থাকলেও, এই সময়ে নিজেদের হাতের কারুকাজ দেখাতে ব্যস্ত থাকেন তারা।
এদিকে, চলমান এই প্রতিমার কাজ দেখতে সকাল-বিকেল ভিড় করেন শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সী মানুষ। আবারও অনেকে আসেন অর্ডার দেয়া প্রতিমা পর্যবেক্ষণে। আগামী ২ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে সাথে নিয়ে দোলায় চড়ে ধরনীতে আগমন ঘটবে দেবী দূর্গার। ফলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সর্বত্র। প্রতিমা তৈরির সাথে সাথে আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি নিতেও দেখা যায় বিভিন্ন মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরুহিতদের।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রণজিত বকসি সূর্য জানান, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ সবধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবক দলসহ স্থানীয় জনগণ। প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন তারা। আগামী মাসের প্রথমের দিকেই প্রতিমা রঙ করা হবে। এছাড়া জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর মেজর সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও জানা যায়।
রণজিত বকসি সূর্য আরও বলেন, এ বছর গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ৫৬১ টি পূজামন্ডপে দূর্গা উৎসব উদযাপন করা হবে। আগামী ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। আর এ বছর ১২ অক্টোবর নবমী এবং একই দিনে বিজয়া দশমী পূজার মাধ্যমে শত শত ভক্ত-অনুরাগীকে কাঁদিয়ে স্বামীর ঘর কৈলাসে পাড়ি জমাবেন মহাশক্তির দেবী দূর্গা।
আফসানা আক্তার মিমি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















