দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ৩৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও কুকুরের কামড়ে অন্তত ১০টি গরু-ছাগলও আহত হয়েছে। এ ঘটনাটি উপজেলার পাকেরহাটের আজগার মেম্বারপাড়া ও ছাগলহাটি এলাকায় দুইদিনের ব্যবধানে ঘটেছে। এতে চরম আতঙ্কের মধ্যদিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ও রবিবার রাত পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে অন্তত ৩৫ জন রোগী চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। গত রবিবার সর্বোচ্চ ২২ জন রোগী কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার উপজেলার পাকেরহাটের আজগার মেম্বারপাড়ায় দুইটি কুকুর জনৈক এক শিশুকে কামড় দিয়ে আহত করে। এরপর কয়েকটি গরু-ছাগলকে কামড় দেয়। তারা ধারণা করছেন, কুকুর দুইটি পাগলা। ধারাবাহিকভাবে কুকুরের কামড়ে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত ও শঙ্কিত হয়ে চলাফেরা করছেন।
পাকেরহাটের হাঁসহাটি রোডের মুকুল ইসলাম জানান, আমার ৬ বছর বয়সী নাতি কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়ার পর বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে এলাকাবাসী সকলেই কুকুর কামড়ের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাই এর প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একদিনে কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে এত মানুষ চিকিৎসা গ্রহণ করতে আগে কখনও আসেনি। তবে দুইদিনে দফায় দফায় কুকুরের কামড়ে আহত সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এসেছে। হাসপাতালে আসা কুকুরের কামড়ে আহত রোগীদের ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 


















