তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধায় প্রভাব পড়েছে ঘূর্ণিঝড় দানা’র। এই প্রভাবে গত দুইদিন ধরে মেঘলা আকাশে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ বইছে দমকা হাওয়া। এর ফলে রোপা আমন খেত নুয়ে পড়েছে মাটিতে। যার কারণে অভাবনীয় ক্ষতির শঙ্কায় কৃষকরা।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে- কাঁচা-পাকা ধানখেত মাটিতে নুয়ে পড়ার চিত্র। সেখানে উঠতি আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কৃষকের কপালে পড়েছ দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, জীবন জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। চলতি রোপা আমন মৌসুমে খরা আর বন্যাসহ নানা প্রতিকুল পেরিয়ে এবার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক বাড়তি খরচে সেচ দিয়ে রোপণ করেছেন এই ধানচারা। ইতোমধ্যে এই ক্ষেতের ধান বেড় হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও পাকতেও দেখা গেছ। এ মুহূর্তেই প্রভাব পড়েছে ঘূর্ণিঝড় দানা’র। বৈরি আবহাওয়ায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিসহ বইছে দমকা হাওয়া। এতে গাইবান্ধা জেলার শত শত হেক্টর আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছে প্রান্তিক কৃষক।
শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, এ বছরে তিন বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছি। প্রথমের দিকে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিলো। এরই মধ্যে পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণের ধানের ক্ষতি হয়েছে। তারপর গত দুইদিনের বৈরি আবহাওয়ার কবলে ৩০ ভাগ ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
আরেক কৃষক আজগর রহমান জানান- সম্প্রতি গুড়ি গুড়ি বুষ্টিসহ দমকা হাওয়ার কারণে ২৫ শতক জমির ধানগাছ পানির উপরে পড়ে গেছে। আধাপাকা এই ক্ষেতের ধান ক্ষতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান বলেন বলেন, ধান গাছ হেলে পড়ে গেছে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। এসব গাছ লজিংআপ করলে রক্ষা পাবেন কৃষকরা। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, বৈরি আবহাওয়া যাতে করে আমন ধানখেতের ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে সহকর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। আশা করি ক্ষতির শিকার হবেন না কৃষকরা।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 


















