বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মের স্বীকৃতি পেলেন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম

ফুল দিয়ে সাজানো একটি মাইক্রোবাস অপেক্ষা করছে স্কুল মাঠে। মঞ্চ থেকে স্কুলের প্রধান ফটক পর্যন্ত সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা। সবার হাতে ফুল। আর এ সকল আয়োজন ছিলো মো. সাইফুল ইসলামের জন্য। তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাঠগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ৩৮ বছরের দীর্ঘ চাকুরী জীবনের শেষ দিন ছিলো গত রোববার।

শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে এসব আয়োজন করেন তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। প্রথমে সংবর্ধনা দেয়া হয় বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সহকর্মী মো. আশরাফুল ইসলাম, রাজকুমার, একরামুল হক, বিপুল কুমার সরকার, শিক্ষার্থী আবু রায়হান, মেহেদী হাসান ও অনামিকাসহ অনেকে।

সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ।  অনুষ্ঠানে ফুলের মালাসহ নানা উপহার সামগ্রীও দেয়া হয় বিদায় শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে।

পরে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঞ্চ থেকে রওনা দেন মাইক্রোবাসের দিকে। এ সময় বাসে উঠা পর্যন্ত দু’ধারে সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাকে। গাড়িতে উঠার পরও ফুল ছেটানো হয়। পরে গাড়িতে করে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পৌঁছে দেন প্রিয় শিক্ষককে।

কর্মজীবনের শেষ দিনে এ ধরনের আয়োজন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে রান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় বাকিরাও ভেঙ্গে পড়েন কান্নায়।

মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকে এ ধরনের আয়োজন হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। এটা আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। যা মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও ভুলবো না। সে কারণে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। আজকের এ আয়োজন মনে রাখবে আমার পরিবারও।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ বলেন, একজন সফল শিক্ষকের যে সকল গুণাবলী থাকা দরকার তাঁর ভিতরে সবগুলোই ছিলো। আজকের এ আয়োজন তাই প্রমাণ করে বলে আমি মনে করি। আমি তাঁর জীবনের সাফল্য কামনা করছি।

 

কর্মের স্বীকৃতি পেলেন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম

প্রকাশের সময়: ০৮:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪

ফুল দিয়ে সাজানো একটি মাইক্রোবাস অপেক্ষা করছে স্কুল মাঠে। মঞ্চ থেকে স্কুলের প্রধান ফটক পর্যন্ত সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা। সবার হাতে ফুল। আর এ সকল আয়োজন ছিলো মো. সাইফুল ইসলামের জন্য। তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাঠগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ৩৮ বছরের দীর্ঘ চাকুরী জীবনের শেষ দিন ছিলো গত রোববার।

শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে এসব আয়োজন করেন তাঁর সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। প্রথমে সংবর্ধনা দেয়া হয় বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সহকর্মী মো. আশরাফুল ইসলাম, রাজকুমার, একরামুল হক, বিপুল কুমার সরকার, শিক্ষার্থী আবু রায়হান, মেহেদী হাসান ও অনামিকাসহ অনেকে।

সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ।  অনুষ্ঠানে ফুলের মালাসহ নানা উপহার সামগ্রীও দেয়া হয় বিদায় শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে।

পরে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঞ্চ থেকে রওনা দেন মাইক্রোবাসের দিকে। এ সময় বাসে উঠা পর্যন্ত দু’ধারে সারিবদ্ধ শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাকে। গাড়িতে উঠার পরও ফুল ছেটানো হয়। পরে গাড়িতে করে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পৌঁছে দেন প্রিয় শিক্ষককে।

কর্মজীবনের শেষ দিনে এ ধরনের আয়োজন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে রান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় বাকিরাও ভেঙ্গে পড়েন কান্নায়।

মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকে এ ধরনের আয়োজন হবে তা কখনো কল্পনাও করিনি। এটা আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। যা মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও ভুলবো না। সে কারণে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। আজকের এ আয়োজন মনে রাখবে আমার পরিবারও।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আজিজ বলেন, একজন সফল শিক্ষকের যে সকল গুণাবলী থাকা দরকার তাঁর ভিতরে সবগুলোই ছিলো। আজকের এ আয়োজন তাই প্রমাণ করে বলে আমি মনে করি। আমি তাঁর জীবনের সাফল্য কামনা করছি।