তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন রুট প্রশস্তকরণসহ ২৩৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। কিন্তু সেখানে সম্প্রসারণ করা হয়নি পুরনো কালভার্ট ও সেতুগুলো। এগুলো সড়কের তুলনায় অতি সরু। একইসঙ্গে সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘন ঘন বাঁক থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন হাজারো পথচারী।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক, সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়ক, গাছুরবাজার-তুলশিঘাটসহ আরও বেশ কিছু রুটে দেখা গেছে- বাঁক সড়কে সরু কালভার্ট-সেতুগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাসহ মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ওইসব স্থানে।
স্থানীয়রা বলছেন, সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট ১৬ কিলোমিটার সড়ক গত এক বছর আগে প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। রংপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের প্রবেশদ্বার এই সড়কটি ইতোমধ্যে যানবাহনে পরিপূর্ণ থাকছে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ অনেক পরিবহন রাত-দিন চলাচল করছে। একই অবস্থা সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কেও। এসব রুটে ডজন খানেক সরু সেতু-কালভার্ট রয়েছে। কিন্তু এগুলো এখনও সম্প্রসারণ করা হয়নি। যার ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে- সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট সড়কের সাদুল্লাপুর শহর থেকে খোর্দ্দরুহিয়ার জামলারজান ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটারে ২২ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে খোর্দ্দরুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খোর্দ্দরুহিয়া পূর্বপাড়ার মোস্তা মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটারে আছে ১০টি বাঁক। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এই মোড়গুলো দিয়ে চলতে গিয়ে একেবারই এপাশ থেকে ওপাশ চোখে পড়ে না। এতে করে যানবাহনগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নুরুজ্জামান মিয়া নামের স্থানীয় ব্যক্তি জানান, অধিক বাঁক সড়ক ও সরু কালভার্ট-সেতু দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, মালবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্টভ্যান, কৃষি পণ্যবাহী পিকআপভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে। পুরনো সেতুগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বাঁক সড়ক সোজা না করা হলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে ।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, এ উপজেলাধীন সড়কে কালভার্ট-সেতু সম্প্রাসরণ করতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট সড়কটি আরও সম্প্রাসরণ করা হবে। এ নিয়ে জমি অধিগ্রহণ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অনেক স্থানে বাঁক কমে যাবে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 



















