দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের হাজীপাড়া সংলগ্ন ভুট্টাক্ষেত থেকে আনিছা খাতুন নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী সবুজ ইসলাম (২৫) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শুক্রবার বেলা ১১টায় র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ নাঈম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফতেজংপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করেন র্যাব সদস্যরা। পরে তাঁকে খানসামা থানায় সোপর্দ করা হয়। আটক সবুজ ইসলাম চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফতেজংপুর গ্রামের কামারের মোড় এলাকার জাহিদের ছেলে। সবুজ ইসলাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার ২নং আসামী এবং নিহত আনিছা খাতুনের স্বামী ও মামলার ১নং আসামী মাহফুজুর রহমানের বন্ধু।
মামলা, প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনিছা খাতুন (১৯) চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের ইপিজেড এভারগ্রিন কোম্পানিতে চাকুরি করার সুবাদে আটক সবুজসহ অন্য আসামীদের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর এক পর্যায়ে মামলার এজাহারভুক্ত ১ নং আসামী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে আনিছার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। ওই বিয়ে আসামীর পরিবার মেনে না নেয়ায় তারা দুইজন নিহত আনিছার বড়ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এর কয়েক মাস পর উভয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বনবাস করতে থাকেন। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে আনিছা তাঁর পিতার বাড়িতে চলে যান। গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আটক আসামীসহ অন্য আসামীরা আনিছাকে তাঁর ভাইয়ের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। পরদিন ৭ জানুয়ারি সকালে খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের হাজীপাড়া সংলগ্ন একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আনিছার বড়ভাই বাদী হয়ে খানসামা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমূল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যা মামলার আসামী সবুজ ইসলামকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















