সরকারি উদ্যোগে শুরু হওয়া শ্মশান চুল্লি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ ২০ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। নিরুপায় হয়ে তারা নিজেরাই প্রকল্পের মূল নকশায় পরিবর্তন এনে কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
নকশা পাল্টে কাজটি হচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার একমাত্র কেন্দ্রীয় শ্মশান বামনজল কর্ণিপড়া মহাশ্মশানে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে আধুনিক শ্মশান চুল্লি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় সরকারি ভাবে। অর্থের অভাবে কাজ থেমে যায় মাঝপথে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে শ্মশান ব্যবহারে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে আরও কয়েকগুণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো অগ্রগতি দেখছি না। সে কারণে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নেই। অর্থ সংগ্রহ করে নির্মাণ কাজ আবারও শুরু করি। নকশা ঠিক রেখে কাজ করলে অনেক অর্থের প্রয়োজন। সে কারণে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের আশা, দ্রুত কাজ শেষ হলে শেষকৃত্যের জন্য আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা শংকর সরকার বলেন, “পৌরসভার একমাত্র শ্মশান চুল্লী এটা। এ শ্মশানের নামে ১৪ শতাংশ জমি দলিল হয় ১৯৮০ সালে। তারও আগ থেকে এখানে মৃতদেহ সৎকার করার কাজটি হয়ে আসছে। আর সেটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ মারা গেলে মৃতদেহ সৎকারে ভীষণ সমস্যা দেখা দেয়। সে কারণে বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে আবারও নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। তবে নকশা পাল্টে কাজ করায় ভীষণ কষ্ট লাগছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার সাবেক কমিশনার মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, কমবেশি বরাদ্দ সবসময় দেয়া হতো। এখন দায়িত্ব নেই। সে কারণে পারছি না। তবে ওই শ্মশানে বরাদ্দ দেয়া দরকার।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “বিষয়টি কেউ আমাকে বলেননি। আবেদন দিতে বলেন। সহায়তা দিতে চেষ্টা করবো ইন্শ আল্লাহ।
স্থানীয় সাংসদ মো মাজেদুর রহমান সরকার বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি। নকশা ঠিক রেখেই কাজ করা হবে ইন্শ আল্লাহ।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















