শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর পরও ‘বিয়ে’! রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তোলপাড়

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মৃত্যুর দুই বছর পর মো. মতিয়ার রহমান নামের এক যুবকের বিবাহ পুনরায় নিবন্ধনে অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিয়ের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মো. মতিয়ার রহমান নামের ওই যুবক ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের মো. নায়েব আলীর মেয়ে মোছা. শারমিন আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মতিয়ারের বিয়ে হয়েছিল। মতিয়ারের মৃত্যুর পর শারমিন অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

মতিয়ারের বাবা মো. হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিয়ের নিকাহনামার একটি নকল কপির প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে যান। কিন্তু পুরোনো নথিপত্র থেকে নকল কপি দেওয়ার বদলে কাজী আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ২০২৬ সালের বিষয়টি সামনে এনে গত ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিয়ে নতুন করে রেজিস্ট্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে কাজী পুনরায় ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে ২০২৪ সালে। শারমিনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছিল। আমি কেবল আগের বিয়ের একটি কপি আনতে গিয়েছিলাম, অথচ কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে এসে নতুন করে এই বিয়ে নিবন্ধন করেছেন।

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই বলেন, “মৃত মতিয়ার রহমানের বিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে নিবন্ধনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নিয়ে এমন কাজ করিনি। আমার রেজিস্ট্রারে নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য সংরক্ষিত আছে। নথিপত্র যাচাই করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

একই বিয়ের বিপরীতে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট—দুটি ভিন্ন তারিখের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের নথিসংক্রান্ত তথ্য আসায় স্থানীয় মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। মৃত ব্যক্তির বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মূল রেজিস্টার জব্দ করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মতিয়ার যে ২০২৪ সালে মারা গেছেন, তা তিনি জানেন এবং তার পরিবার পরিষদ থেকে মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও সংগ্রহ করেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এ প্রসঙ্গে বলেন, নিয়মবহির্ভূত এমন কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

মৃত্যুর পরও ‘বিয়ে’! রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তোলপাড়

মৃত্যুর পরও ‘বিয়ে’! রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশের সময়: ০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মৃত্যুর দুই বছর পর মো. মতিয়ার রহমান নামের এক যুবকের বিবাহ পুনরায় নিবন্ধনে অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিয়ের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মো. মতিয়ার রহমান নামের ওই যুবক ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের মো. নায়েব আলীর মেয়ে মোছা. শারমিন আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মতিয়ারের বিয়ে হয়েছিল। মতিয়ারের মৃত্যুর পর শারমিন অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

মতিয়ারের বাবা মো. হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিয়ের নিকাহনামার একটি নকল কপির প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে যান। কিন্তু পুরোনো নথিপত্র থেকে নকল কপি দেওয়ার বদলে কাজী আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ২০২৬ সালের বিষয়টি সামনে এনে গত ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিয়ে নতুন করে রেজিস্ট্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সমালোচনার মুখে কাজী পুনরায় ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে ২০২৪ সালে। শারমিনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছিল। আমি কেবল আগের বিয়ের একটি কপি আনতে গিয়েছিলাম, অথচ কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে এসে নতুন করে এই বিয়ে নিবন্ধন করেছেন।

তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই বলেন, “মৃত মতিয়ার রহমানের বিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে নিবন্ধনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ নিয়ে এমন কাজ করিনি। আমার রেজিস্ট্রারে নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য সংরক্ষিত আছে। নথিপত্র যাচাই করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

একই বিয়ের বিপরীতে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট—দুটি ভিন্ন তারিখের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের নথিসংক্রান্ত তথ্য আসায় স্থানীয় মহলে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। মৃত ব্যক্তির বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মূল রেজিস্টার জব্দ করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মতিয়ার যে ২০২৪ সালে মারা গেছেন, তা তিনি জানেন এবং তার পরিবার পরিষদ থেকে মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও সংগ্রহ করেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এ প্রসঙ্গে বলেন, নিয়মবহির্ভূত এমন কোনো কাজ করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।