সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইডি জটে মৃত্যুফাঁদ পশ্চিমবাটি সড়ক

একবার পাকা করার পর ১৮ বছরেও আর সংস্কার হয়নি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমবাটি সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির পিচ উঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের দুই পাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোড আইডি না থাকার জটিলতায় বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের বাইরে রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে পাকাকরণের পর থেকে সড়কটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের মানুষকে।

উপজেলার ভাঙাব্রিজ-দুর্গাপুর সড়কের পশ্চিমবাটি অংশের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আনিছুরের চাতাল, মওলার বাড়ি, পল্টনের দোকানসহ অন্তত ১৫টি স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও সড়কের পাশ ধসে পড়েছে, আবার কোথাও মাটি সরে গিয়ে সরু হয়ে গেছে চলাচলের পথ।

স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝার উপায় থাকে না কোথায় কতটা গভীর। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে।

পশ্চিমবাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। মানুষ আহত হচ্ছে। কৃষকরাও ফসল নিয়ে বাজারে যেতে দুর্ভোগে পড়ছেন।

মজিবর রহমান নামের এক কৃষক বলেন, এটাই আমাদের এলাকার প্রধান সড়ক। এখন এই সড়ক দিয়ে হাঁটাও কঠিন। দ্রুত সংস্কার না হলে সামনে আরও বড় সমস্যা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির রোড আইডি সংশোধনের জন্য গত দুই বছরে দুই দফা এলজিইডিতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই জটিলতার সমাধান হয়নি। এখানেই উঠছে প্রশ্ন—একটি সড়ক ১৮ বছর ধরে সংস্কারের বাইরে থাকলে শুধু রোড আইডির জটিলতাই কি এর একমাত্র কারণ?

তাদের দাবি, রোড আইডি সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এখন সড়কটি কার্যত মৃত্যুঝুঁকির পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ২০০৭ সালে সড়কটি কীভাবে পাকাকরণ করা হয়েছিল, যদি তখন এর রোড আইডি না থাকে? আর পাকাকরণের পর দীর্ঘ ১৮ বছরে সড়কটির আইডি সংশোধনের উদ্যোগ কেন কার্যকর হয়নি? তবে প্রশাসনিক বা কারিগরি জটিলতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই জটিলতার কারণে একটি জনপদের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগে থাকবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু প্রস্তাবনা পাঠানো নয়, দ্রুত রোড আইডির জটিলতা নিরসন করে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। দীর্ঘ ১৮ বছরের ভোগান্তির অবসান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পাকাকরণের সময় সড়কটির রোড আইডি ছিল না। এ কারণে এতদিন সংস্কার করা যায়নি। তবে আইডি সংশোধনের জন্য প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী হেলালুর রহমান।

 

আইডি জটে মৃত্যুফাঁদ পশ্চিমবাটি সড়ক

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একবার পাকা করার পর ১৮ বছরেও আর সংস্কার হয়নি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমবাটি সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির পিচ উঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের দুই পাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোড আইডি না থাকার জটিলতায় বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের বাইরে রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে পাকাকরণের পর থেকে সড়কটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বর্তমানে সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের মানুষকে।

উপজেলার ভাঙাব্রিজ-দুর্গাপুর সড়কের পশ্চিমবাটি অংশের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আনিছুরের চাতাল, মওলার বাড়ি, পল্টনের দোকানসহ অন্তত ১৫টি স্থানে সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও সড়কের পাশ ধসে পড়েছে, আবার কোথাও মাটি সরে গিয়ে সরু হয়ে গেছে চলাচলের পথ।

স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝার উপায় থাকে না কোথায় কতটা গভীর। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে।

পশ্চিমবাটি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা। যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। মানুষ আহত হচ্ছে। কৃষকরাও ফসল নিয়ে বাজারে যেতে দুর্ভোগে পড়ছেন।

মজিবর রহমান নামের এক কৃষক বলেন, এটাই আমাদের এলাকার প্রধান সড়ক। এখন এই সড়ক দিয়ে হাঁটাও কঠিন। দ্রুত সংস্কার না হলে সামনে আরও বড় সমস্যা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির রোড আইডি সংশোধনের জন্য গত দুই বছরে দুই দফা এলজিইডিতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই জটিলতার সমাধান হয়নি। এখানেই উঠছে প্রশ্ন—একটি সড়ক ১৮ বছর ধরে সংস্কারের বাইরে থাকলে শুধু রোড আইডির জটিলতাই কি এর একমাত্র কারণ?

তাদের দাবি, রোড আইডি সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পর তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এখন সড়কটি কার্যত মৃত্যুঝুঁকির পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ২০০৭ সালে সড়কটি কীভাবে পাকাকরণ করা হয়েছিল, যদি তখন এর রোড আইডি না থাকে? আর পাকাকরণের পর দীর্ঘ ১৮ বছরে সড়কটির আইডি সংশোধনের উদ্যোগ কেন কার্যকর হয়নি? তবে প্রশাসনিক বা কারিগরি জটিলতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই জটিলতার কারণে একটি জনপদের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগে থাকবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু প্রস্তাবনা পাঠানো নয়, দ্রুত রোড আইডির জটিলতা নিরসন করে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করতে হবে। দীর্ঘ ১৮ বছরের ভোগান্তির অবসান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পাকাকরণের সময় সড়কটির রোড আইডি ছিল না। এ কারণে এতদিন সংস্কার করা যায়নি। তবে আইডি সংশোধনের জন্য প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী হেলালুর রহমান।