বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের উদ্বোধন ২০২৭ সালের নভেম্বরে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে প্রস্তাবিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র কাজ ২০২৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটির পরিকল্পনা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সিইজিআইএস, নদী কমিশন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শ সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। স্থানীয় মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় আরও ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় ৩ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। নদীভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতাসহ তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা এলাকার পরিবেশ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজের উদ্বোধন ২০২৭ সালের নভেম্বরে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ০৫:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে প্রস্তাবিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র কাজ ২০২৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটির পরিকল্পনা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সিইজিআইএস, নদী কমিশন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শ সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। স্থানীয় মানুষের জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়ায় আরও ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় ৩ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। নদীভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতাসহ তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন। পাশাপাশি খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা এলাকার পরিবেশ উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।