গাইবান্ধার নলডাঙ্গা সাব পোষ্ট অফিসটি যুগযুগ ধরে ভাড়া ঘরে চলছে। বৃটিশ আমলে স্থাপিত হলেও এটির নিজস্ব জায়গা কিংবা ভবন নেই।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় জেলার হাট-লক্ষীপুর,কামারপাড়া,কান্তনগর ছান্দিয়াপুর,বাজারপাড়া,ধোপাডাঙ্গা ও রাজিবপুর সহ ৭টি শাখা পোষ্ট অফিস নিয়ে নলডাঙ্গা এ সাব অফিসটি গঠিত হয়। জনগুরুত্বপূর্ন অফিসটির এ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫টি স্থানে স্থাহান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে অফিসটি নলডাঙ্গা সাউদিয়া মার্কেটের নীচতলার একেবারে ভিতরে ভগ্নদশা ছোট একটি ঝুঁকিপূর্ন কক্ষে ৫ বছর মেয়াদে মাসিক ভাড়ায় নিয়ে এর দৈনন্দিন কাজকর্ম চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেই অফিসটি অন্যত্র স্থাহান্তরের পালা আসে। এভাবে গুরুত্বপূর্ন অফিসটি কখন কোথায় স্থাহান্তর করা হচ্ছে তা অনেকেই জানে না। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে চুক্তি না হলে আবারো পোষ্ট অফিসটি কোথায় স্থাহান্তর করা হবে এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে অনেক সময় সেবা নিতে আসা নারী-পুরুষ অনেকেই অফিসটি খুজে না পেয়ে চরম হয়রানী শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে মান্ধাতা আমলের চেয়ার টেবিল ও আসবাব পত্র গুলো এখনও রয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এটি কোন অফিস নয় কোন বসত ঘর। এছাড়া এখানে সেবা গ্রহিতাতাদের জন্য বসার নেই কোন সুব্যবস্থা। নেই কোন মলমুত্র ত্যাগের নির্ধারিত টয়লেট।
অফিসটি ভবনের একেবারে ভিতরে হওয়ায় আকাশ মেঘলা কিংবা বিদ্যৎ চলে গেলেই গোটা অফিসটি যেন ভুতুরে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় কিছুটা কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
ভুক্তভোগি সেবা গ্রহিতা নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ছাত্তার মিয়া বলেন, বিভিন্ন সময়ে অনেক কাজে পোস্ট অফিসে যেতে হয়। কিন্তু পোস্ট অফিসটির নিজের কোন জায়গা ও ঘর না থাকায় মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করে। অনেক সময় তা খুঁজে পাওয়াই দুস্কর।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক শাহরিয়ার ইসলাম রাসেল বলেন, সরকার ডাক বিভাগের সেবা সর্বসাধারনের দোড় গোড়ায় সহসাই পৌঁছে দেয়ার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্ত সরকারের এ মহতী উদ্যোগ অবহেলিত এ পোষ্ট অফিসটির জন্য আজও কোন কাজে আসেনি।
নলডাঙ্গা পোস্ট অফিসের দায়িত্বরত পোষ্ট মাষ্টার নুরুন্নবী খন্দকার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, স্থায়ী জমি ও ভবন না থাকায় পোষ্ট অফিসটি ভাড়ায় চালাতে হচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদে প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। চুক্তির মেয়াদও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর এটি এখানেই থাকবে নাকি অন্য কোথাও যাবে তা আমি বলতে পারবো।
শহিদুল ইসলাম শাহীন, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, নলডাঙ্গা (সাদুল্লাপুর) 



















