মাস খানেক আগে মোবাইলে কথা ও পরিচয় হয় প্রেমিক ও প্রেমিকার। অতঃপর বিয়ের প্রলোভনে গড়ে উঠে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। মধ্যরাতে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে ৩ বন্ধু মিলে প্রেমিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ প্রেমিক সেফাউল ইসলাম ওরফে ইমরান (১৯) কে আটক করেছে।
ঘটনাটি শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকায় ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার প্রেমিকা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ মন্ত্রীপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
ভিকটিম ওই কিশোরী ১০ জুলাই শনিবার গোবিন্দপুর এলাকার সাহাদাত হোসেনের ছেলে প্রেমিক সেফাউল ইসলাম ওরফে ইমরান (২৫) সহ খামার বিষ্ণু গঞ্জ এলাকার মন্ত্রীপাড়া এলাকার আইনুদ্দিনের ছেলে সুজন ইসলাম (২২) ও নাপিত জগদিসের ছেলে মুকুল শর্মা (২৩) এ ৩জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। থানা পুলিশ প্রেমিক সেফাউল ইসলাম ওরফে ইমরান আটক করেছে।
অভিযোগের অপর আসামীরা হলো-প্রেমিকের অপর দুই সহযোগী খামার বিষ্ণুগঞ্জ মন্ত্রীপাড়া এলাকার সুজন ইসলাম (২২) ও মুকুল শর্মা (২৩) পলাতক রয়েছে। থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ২০-২৫দিন পূূর্বে সেফাউল ইসলাম ওরফে ইমরান ও প্রেমিকার মধ্যে মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয়। প্রেমিক ইমরান বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রেমিক ঘটনার দিন গত শুক্রবার রাতে ফোন করে জরুরি গোপন কথা আছে বলে প্রেমিকার নিকট কাকুতি-মিনতি করে। এতে প্রেমিকা তার প্রেমিকের সাথে দেখা করতে রাজি হয়। এরপর প্রেমিকা বাড়ির বাইরে আসলে প্রেমিক ইমরান ও ওৎপেতে থাকা প্রেমিকের অপর দুই সহযোগী সুজন ইসলাম ও মুকুল শর্মা প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে খামার বিষ্ণুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটের পিছনে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পর্যায়ক্রমে সেফাউল ইসলাম ইমরান, মুকুল শর্মা ও সুজন ইসলাম ধর্ষণ করে। এসময় ওই কিশোরীর চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে ওই স্কুলের পাশের রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা এগিয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পড়নের কামিজ নিয়ে যায়। পরে পথচারীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাঁর পিতার বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্ত শেখ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ওই কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় সেফাউল ইসলাম ওরফে ইমরানকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে অভিযান অব্যাহত আছে। কেউ পলাতক সুজন ও মুকুলের সন্ধান পেলে দ্রুত থানায় যোগাযোগ করুন। ছবি আছে।
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















