বাড়ির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে আসছেন অনেক কৃষক। আবার অনেকে উন্নত জাত ও ফলনের জন্য ওলকচু চাষ করছেন। কিন্তু প্রথমবারের মত দিনাজপুরের খানসামায় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং অনেক রোগ নিরাময় করে এমন লাভজনক ও উন্নত মাদ্রাজী জাতের ওলকচু চাষ হচ্ছে। আগামি ২-৩ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ ও বাজারে উঠবে বলে জানান কৃষকরা।
খাদ্যাভাসে পরিবর্তনের কারণে এখন মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কন্দ তথা কচু জাতীয় ফসলের সংযোজন ঘটাতে এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও কন্দাল ফসল উনয়ন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুরের খানসামায় প্রথমবারের মত মাদ্রাজী জাতের উন্নত ওলকচু চাষ হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ বিষয়ে কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন।
এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি বছর খানসামা উপজেলার ১২জন কৃষক ২৪০ শতক জমিতে ওলকচু চাষ করেছেন। উপজেলার ভাবকী গ্রামের কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত শি¶ক মোজাম্মেল হক জাগো২৪.কম বলেন, আগে তো বাড়ির আশপাশে দেশি জাতের ওলকচু চাষ করতাম।
এবার মাদ্রাজী জাতের ওলকচু লাগিয়েছি। মাদ্রাজী ওলের ফলন ও গুণাগুণ বিষয়ে জানতে পেরে কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি। ২০ শতক জমিতে চাষ, নিড়ানী ও অন্যান্য বাবদ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফসল তোলা পর্যন্ত আরও কিছু খরচ হবে। আশা করি আগামি ২-৩ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ করা যাবে। একই কথা বলেন ভেড়ভেড়ি ইউপির ভেড়ভেড়ি গ্রামের সবুজ রায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. নুর ফারিহা আইরিন জাগো২৪.নেট-কে বলেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওলকচুতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, থায়ামিন, লোহা, আঁশ, নিকোটিনিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়া, ভিটামিন রয়েছে। তাই ওলকচু খেলে পেটের পীড়া, ফোঁড়া, হাঁপানি, গোদ, অর্শ, বাত, রক্তের ব্যাধি, প্লীহার স্ফীতি প্রভৃতি নিরাময় হয়। আর গাছের উপরের অংশ কানের ব্যথা, গলা ফুলা, ফুসকুড়ি, কলেরা, উদরাময়, পোকামাকড়ে কামড় ইত্যাদি অসুখ সারাতেও ব্যবহার হয়।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম জি এইচ কামরুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, কৃষি বিভাগের প¶ থেকে কৃষকদের বীজ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং যে কোনো প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।
খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জাগো২৪.নেট-কে জানান, ওল একটি লাভজনক কন্দ জাতীয় সবজি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের ওলকচু চাষ করে অনেকে ভাগ্য বদলেছেন। আশা করি খানসামা উপজেলার কৃষকরা ভালো ফলন এবং বাজার মূল্য পাবেন। লাভবান হবেন। এটার চাষ আরও বাড়বে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 


















