তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধা জেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে রোপা আমন চারা রোপনের কাজ। চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা।
রোববার(২৫ জুলাই) গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এরই মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চারা রোপন করেছে কৃষকরা।
জানা জায়, জীবন জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে অধিক লাভ হলেও অনেকটা ঝুঁকিও রয়েছে। তিস্তা-ব্রমহ্মপুত্র ও যমুনা বিধৌদ বাংলার রূপ গাইবান্ধা। বছরের জুন-জুলাই মাসে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে করে রোপা আমন ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হন কৃষকরা। এ ক্ষতি পূষিয়ে নিতে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আবারও রোপন করা হয় আমন চারা। তবে উঁচু এলাকার কৃষকদের রোপা আমনে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় না। আমন চারা রোপনের সময় প্রত্যেক বছরে বন্যা দেখা দিলেও এ বছরে এখনো বন্যার প্রভাব পড়েনি। তাই সম্প্রতি উঁচু এলাকার কৃষকরা আমন ধান চারা রোপন কাজ শুরু করেছে। আর কিছুদিন পরই নিচু এলাকার কৃষকরাও রোপন করবেন আমন চারা।
কৃষক আকবর আলী বলেন, এছরের দেড় একর জমিতে আমন চাষাবাদ করা হবে। ইত্যেমধ্যে ৩৫ শতক উঁচু জমিতে রোপন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে কাঙ্খিত ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, এর আগে নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কৃষকদের জন্য বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 









