তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধায় চলছে বর্ষার ভরা যৌবন। শ্রাবনে রয়েছে প্রখর রোদ। এ রোদে কৃষকের শুকিয়েছে মাঠ । কিছু নিচু জমিতে জমাট রয়েছে পানি। রোপা আমনের প্রস্তুতিতে এ জমি চাষ করা হচ্ছিল। এসময় হাঁটু কাদা পানিতে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছে একদল গৃহবধূ ও কিশোর-কিশোরী।
সরেজমিনে শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে গাইবান্ধার জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিনের জমি চাষে দেখা যায় আবহমান গ্রামবাংলার চিরায়িত দৃশ্য।
এসময় একদল কিশোর-কিশোরী ও গৃহবধূরা মাছ ধরায় মনোনিবেশ ছিল। এসব মাছ প্রেমিদের কারও হাতে ডালি-ডালা ও থালা-বাটি, আবার কারও হাতে প্লাষ্টিকের নানা উপকরণ। এসব দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্ত ছিলেন তারা। ছোট প্রজাতির ডারকে,পুটি ও টেংরাসহ আরও অন্যান্য মাছ ধরে খলাইয়ে রাখা হচ্ছিল।
জানা যায়, এক সময় গ্রাম বাংলায় বর্ষা শেষে নিচু জমি ও খাল-বিল সেচে মাছ ধরা হতো। কিন্তু দুই দশক ধরে অধিকাংশ প্রজাতির দেশীয় হারিয়েছে। যার ফলে চিরায়িত সেই দৃশ্য আগের মতো এখন আর সচরাচর চোখে পড়েনা। তবে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে কিছুটা রৌদ্র পুড়ে হাঁটু পানিতে মাধ ধরার চিত্র দেখা মেলে। কাদা পানিতে নেমে মাছ ধরা গ্রাম বাংলার অন্যতম বিনোদনও বটে। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি তা বহমান।
স্থানীয় ছকিনা বেওয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধা বলেন, খাল-বিলের পাঁচ মিশালী মাছের স্বাদ অন্যতম। গোশতের চেয়ে রান্না করা এ মাছ দিয়ে ভাত খেতে অনেকটাই মুখরোচক। কিন্তু ছোট ছোট মাছগুলো কমে যাওয়া সেই রান্নার ঘ্রাণ এখন আর নাকে আসে না।
আরেক প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুর রউফ মিয়া (৭৫) জানান, আগে এমনভাবে বিভিন্ন জাতের দেশীয় মাছ ধরা গেলেও, এখন আর সেইদিন নেই। হারিয়ে গেছে নানা জাতের মাছ। তাই হাঁটু কাদা পানিতে নেমে জমে উঠে না মাছ ধরার উৎসব।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 



















