রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশ্র‍য়ণের ঘর নির্মাণে বাঁধার সম্মুখিন প্রশাসন

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গুচ্ছগ্রামের পাশে মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত ৪ এপ্রিল এসব বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলে তাতে বাঁধা দিয়ে আসছেন উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের মৃত মকসেদ আলী সরকারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সরকার।

এ ব্যাপারে তিনি গত ৮ এপ্রিল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সরকারি কাজে বাঁধাদানের’ অভিযোগে মামলা হলে গত ৭ এপ্রিল সিরাজুল ইসলাম সরকারের ছেলে সেলিম সরকারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

ইতিপূর্বে সিরাজুল ইসলাম সরকার ‘জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে ক্রয় করা নিজের জমি’ দাবি করে মামলা করলে তাতে আদালত সিরাজুলের নামে লিজ নেয়া তিন একর জমি বাদ দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরির নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম সরকার সেখানকার ১৩ একর ৭০ শতক খাসজমির বিভিন্ন স্থান নিজের দাবি করে ইতিমধ্যে কিছু জমি বিক্রি করেছেন। এখন তাতে আশ্রয়ণের ঘর তুলতে বাঁধা দিচ্ছেন।

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের দাবি মোতাবেক যে মামলাটি হয়েছিল সেই মামলার রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। কারণ ওইস্থানে খাসজমির পরিমাণ ১৩ একর ৭০ শতক। যার মধ্যে সিরাজুল ইসলাম সরকার ভোগদখল করতে পারেন ৩ একর জমি। অবশিষ্ট জমিগুলোতে এ আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

চিরিরবন্দর মৌজার ‘ক’ তফসিলভুক্ত জেএল নং ৬১, দাগ ৪০২৪/৫৮৫৮, খতিয়ান নং ১ এ নির্মাণ করা হচ্ছে মুজিববর্ষের উপহারের বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩-এর অধিনে ৫০টি বাড়ি। এসব বাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে ২২ বছর আগে নির্মিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের। কারণ সরকারিভাবে নির্মিত ওই গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো এখন ব্যবহার প্রায় অনুপযোগী।

সিরাজুল ইসলাম সরকার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রথম শ্রেণির কবলা দলিল মূলে তিন একর জমি ক্রয় করেন আমার পিতা মৃত মকসেদ আলী সরকার। সেই হিসেবেই আমরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের না জানিয়েই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি। আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আব্দুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে গেলে কতিপয় লোক তাদের জমি বলে দাবি করছে। কিন্তু এই জমি সরকারের। এই জমিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, যে ব্যক্তি কাজ করতে বাঁধা দিচ্ছেন আমরা তার জমিতে কাজ করছি না। ওই ব্যক্তি তিন একর জমি ছাড়াও অতিরিক্ত জমি দখল করে আছেন। আবার উনি বন্দোবস্ত গ্রহণ করে অনেক জমিই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হাতবদল করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়।

আশ্র‍য়ণের ঘর নির্মাণে বাঁধার সম্মুখিন প্রশাসন

প্রকাশের সময়: ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ এপ্রিল ২০২২

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গুচ্ছগ্রামের পাশে মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত ৪ এপ্রিল এসব বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলে তাতে বাঁধা দিয়ে আসছেন উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের মৃত মকসেদ আলী সরকারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সরকার।

এ ব্যাপারে তিনি গত ৮ এপ্রিল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সরকারি কাজে বাঁধাদানের’ অভিযোগে মামলা হলে গত ৭ এপ্রিল সিরাজুল ইসলাম সরকারের ছেলে সেলিম সরকারকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

ইতিপূর্বে সিরাজুল ইসলাম সরকার ‘জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে ক্রয় করা নিজের জমি’ দাবি করে মামলা করলে তাতে আদালত সিরাজুলের নামে লিজ নেয়া তিন একর জমি বাদ দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরির নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম সরকার সেখানকার ১৩ একর ৭০ শতক খাসজমির বিভিন্ন স্থান নিজের দাবি করে ইতিমধ্যে কিছু জমি বিক্রি করেছেন। এখন তাতে আশ্রয়ণের ঘর তুলতে বাঁধা দিচ্ছেন।

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের দাবি মোতাবেক যে মামলাটি হয়েছিল সেই মামলার রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। কারণ ওইস্থানে খাসজমির পরিমাণ ১৩ একর ৭০ শতক। যার মধ্যে সিরাজুল ইসলাম সরকার ভোগদখল করতে পারেন ৩ একর জমি। অবশিষ্ট জমিগুলোতে এ আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

চিরিরবন্দর মৌজার ‘ক’ তফসিলভুক্ত জেএল নং ৬১, দাগ ৪০২৪/৫৮৫৮, খতিয়ান নং ১ এ নির্মাণ করা হচ্ছে মুজিববর্ষের উপহারের বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩-এর অধিনে ৫০টি বাড়ি। এসব বাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে ২২ বছর আগে নির্মিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের। কারণ সরকারিভাবে নির্মিত ওই গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো এখন ব্যবহার প্রায় অনুপযোগী।

সিরাজুল ইসলাম সরকার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রথম শ্রেণির কবলা দলিল মূলে তিন একর জমি ক্রয় করেন আমার পিতা মৃত মকসেদ আলী সরকার। সেই হিসেবেই আমরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের না জানিয়েই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি। আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

আব্দুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে গেলে কতিপয় লোক তাদের জমি বলে দাবি করছে। কিন্তু এই জমি সরকারের। এই জমিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, যে ব্যক্তি কাজ করতে বাঁধা দিচ্ছেন আমরা তার জমিতে কাজ করছি না। ওই ব্যক্তি তিন একর জমি ছাড়াও অতিরিক্ত জমি দখল করে আছেন। আবার উনি বন্দোবস্ত গ্রহণ করে অনেক জমিই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হাতবদল করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়।