শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানসামায় বিদ্যালয়ে তালা ভাঙার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

রাতের অন্ধকারে দিনাজপুরের খানসামায় কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করতে রাতের অন্ধকারে অফিস কক্ষের তালা ভাঙ্গার প্রতিবাদে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এক মানববন্ধন করেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সম্মুখ সড়কে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে অফিস কক্ষের তালা ভাঙার প্রতিবাদে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে মানববন্ধনকারীরা। অন্তত দেড় ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মন্টু আলী। কিন্তু সেই সময় থেকে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী নিজেকে প্রধান হিসেবে দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ৬ মাসের জন্য এ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমানকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের একটি এডহক কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির ক্ষমতাবলে তারা আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়।

আসলাম আলী গত মাসে অবসরে যাওয়ার সময় অপর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকছেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়।

তবে ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক এই কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলীকে খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক, এডহক কমিটির সভাপতি এ্যাড. সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করাতে গেট ও কক্ষের তালা ভেঙে ঢুকতে গেলে বিপত্তি বাঁধে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ড ও ধাওয়া-পাল্টা এবং মারপিটের ঘটনা ঘটে।

এতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের জন্য ব্যাংকের কাজ শেষ করে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তবে এইসময়ে আমাদের অগোচরে কে বা কারা তালা ভেঙে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসিসহ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত।

জনপ্রিয়

ভুলে জয়বাংলা বলায় সংবাদ সম্মেলনে দুঃখপ্রকাশ এনসিপি নেতার

খানসামায় বিদ্যালয়ে তালা ভাঙার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

প্রকাশের সময়: ০৬:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২

রাতের অন্ধকারে দিনাজপুরের খানসামায় কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করতে রাতের অন্ধকারে অফিস কক্ষের তালা ভাঙ্গার প্রতিবাদে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এক মানববন্ধন করেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলার কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সম্মুখ সড়কে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে অফিস কক্ষের তালা ভাঙার প্রতিবাদে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে মানববন্ধনকারীরা। অন্তত দেড় ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, গত ২০২০ সালের ১ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মন্টু আলী। কিন্তু সেই সময় থেকে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী নিজেকে প্রধান হিসেবে দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ৬ মাসের জন্য এ্যাডভোকেট মো. শামসুর রহমানকে সভাপতি করে ৪ সদস্যের একটি এডহক কমিটি ঘোষণা করে। কমিটির ক্ষমতাবলে তারা আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেয়।

আসলাম আলী গত মাসে অবসরে যাওয়ার সময় অপর সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকছেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়।

তবে ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক এই কমিটিকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৭টার দিকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোকসেদ আলীকে খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক, এডহক কমিটির সভাপতি এ্যাড. সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করাতে গেট ও কক্ষের তালা ভেঙে ঢুকতে গেলে বিপত্তি বাঁধে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতন্ড ও ধাওয়া-পাল্টা এবং মারপিটের ঘটনা ঘটে।

এতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঞ্জুরুল হক জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের জন্য ব্যাংকের কাজ শেষ করে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তবে এইসময়ে আমাদের অগোচরে কে বা কারা তালা ভেঙে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসিসহ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত।