শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজের সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগ

নিয়োগ বাণিজ্য করতে না পেরে ঈর্ষান্বিত হয়ে সদ্য এমপিও ঘোষিত ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী মডেল কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজটির অধ্যক্ষ এনামুল হক।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ এনামুল হক।

তিনি বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক গত ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবর নিয়োগপত্র প্রাপ্ত হয়ে উদাখালী মডেল কলেজে ইসলামের ইতিহাস (প্রভাষক) পদে যোগদান করি। পরবর্তীতে অত্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির কর্তৃক কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি গত ২০১৪ সালের ২ জুন অব্যাহতি নেন। এরপর কলেজের গভর্নিং বডি সরকারি বিধি মোতাবেক আমাকে ওই সালের ২০ নভেম্বর অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করলে ২২ নভেম্বর অত্র কলেজে যোগদান করি। আমি যোগদানের পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের সহায়তায় সুনামের সহিত কলেজটি পরিচালনা করে আসছি।

এনামুল হক বলেন, চলতি বছরের ৬ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলেজটি এমপিও ভুক্তির আওতায় আনেন। কলেজটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির ও সদ্য সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদারের যোগসাজসে বিভিন্ন পদে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করেন। উদাহরণ স্বরূপ কলেজের বাংলা প্রভাষক পদে একেএম শামসুজ্জোহা নিয়োগ প্রাপ্ত  ২০০০ সালের ২৭ মে যোগদান করেন। তিনি নিষ্ঠার সহিত ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঠদান করেন। যা উপস্থাপিত রেজুলেশন, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও হাজিরা খাতায় সংরক্ষিত আছে। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকুরি পেলে সেখানে যোগদান করেন। কিন্তু সদ্য সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদার ও সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির যোগসাজসে সানাউর রহমান নামক ব্যক্তিকে উক্ত পদে অবৈধভাবে নিয়োগের নিমিত্তে রেজুলেশন কাটাকাটি করে একেএম শামসুজ্জোহার স্থলে সানাউর রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করেন। আমি রেগুলেশনে একেএম শামসুজ্জোহার স্থলে সানাউর রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করাসহ কয়েকজন কর্মচারীর অবৈধ নিয়োগ প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করলে  সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদার ঈর্শান্বিত হয়ে কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ ছাড়াই রেজুলেশন ব্যতিত এককভাবে চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর আমাকে অবৈধভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন। যা আইনের পরিপন্থি।

উল্লেখ্য সভাপতি পদে রিপন তালুকদারের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এ বিষয়ে আমি ২৪ অক্টোবর দৈনিক মাধুকর পত্রিকায় প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে। যার তীব্র প্রতিবাদ করছি। কলেজটির সার্বিক সফলতার জন্য আমি প্রশাসনসহ সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উদাখালী মডেল কলেজের বিগত এ্যাডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি এসএম মামরুদ হাসান, প্রভাষক ছাইদুর রহমান, আমিনুর রহমান, রুহুল আমিন, কবির হোসেন সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

 

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজের সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর ২০২২

নিয়োগ বাণিজ্য করতে না পেরে ঈর্ষান্বিত হয়ে সদ্য এমপিও ঘোষিত ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী মডেল কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে কলেজ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজটির অধ্যক্ষ এনামুল হক।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধ্যক্ষ এনামুল হক।

তিনি বলেন, সরকারি বিধি মোতাবেক গত ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবর নিয়োগপত্র প্রাপ্ত হয়ে উদাখালী মডেল কলেজে ইসলামের ইতিহাস (প্রভাষক) পদে যোগদান করি। পরবর্তীতে অত্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির কর্তৃক কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম প্রমাণিত হলে তিনি গত ২০১৪ সালের ২ জুন অব্যাহতি নেন। এরপর কলেজের গভর্নিং বডি সরকারি বিধি মোতাবেক আমাকে ওই সালের ২০ নভেম্বর অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করলে ২২ নভেম্বর অত্র কলেজে যোগদান করি। আমি যোগদানের পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের সহায়তায় সুনামের সহিত কলেজটি পরিচালনা করে আসছি।

এনামুল হক বলেন, চলতি বছরের ৬ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলেজটি এমপিও ভুক্তির আওতায় আনেন। কলেজটি এমপিও ভুক্ত হওয়ার পর সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির ও সদ্য সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদারের যোগসাজসে বিভিন্ন পদে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করেন। উদাহরণ স্বরূপ কলেজের বাংলা প্রভাষক পদে একেএম শামসুজ্জোহা নিয়োগ প্রাপ্ত  ২০০০ সালের ২৭ মে যোগদান করেন। তিনি নিষ্ঠার সহিত ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঠদান করেন। যা উপস্থাপিত রেজুলেশন, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও হাজিরা খাতায় সংরক্ষিত আছে। পরবর্তীতে তিনি সরকারি চাকুরি পেলে সেখানে যোগদান করেন। কিন্তু সদ্য সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদার ও সাবেক অধ্যক্ষ ফিরোজ কবির যোগসাজসে সানাউর রহমান নামক ব্যক্তিকে উক্ত পদে অবৈধভাবে নিয়োগের নিমিত্তে রেজুলেশন কাটাকাটি করে একেএম শামসুজ্জোহার স্থলে সানাউর রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করেন। আমি রেগুলেশনে একেএম শামসুজ্জোহার স্থলে সানাউর রহমানকে অর্ন্তভুক্ত করাসহ কয়েকজন কর্মচারীর অবৈধ নিয়োগ প্রদানে অসম্মতি জ্ঞাপন করলে  সাবেক সভাপতি রিপন তালুকদার ঈর্শান্বিত হয়ে কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ ছাড়াই রেজুলেশন ব্যতিত এককভাবে চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর আমাকে অবৈধভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন। যা আইনের পরিপন্থি।

উল্লেখ্য সভাপতি পদে রিপন তালুকদারের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। এ বিষয়ে আমি ২৪ অক্টোবর দৈনিক মাধুকর পত্রিকায় প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে। যার তীব্র প্রতিবাদ করছি। কলেজটির সার্বিক সফলতার জন্য আমি প্রশাসনসহ সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উদাখালী মডেল কলেজের বিগত এ্যাডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি এসএম মামরুদ হাসান, প্রভাষক ছাইদুর রহমান, আমিনুর রহমান, রুহুল আমিন, কবির হোসেন সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।