গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরফ কামাল গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের যুবক সাকিল মিয়া (১৮)। দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও অদ্যবদি থামেনি বাবা-মায়ের কান্না! এখনো পায়নি সঠিক তদন্ত কিংবা বিচার। এমনটাই দাবি পরিবারটির।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সাকিলের কবরের পাশে ছবি বুকে ধারণ করে অঝোড়ে কাঁদছিলেন তার বাবা ও মা। যেন কিছুতে থামছিল না তাদের সন্তানহারা কান্না!
জানা যায়, তরফ কামাল গ্রামের দিনমজুর শহিদুল ইসলাম। জীবিকার তাগিদে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকায়। এখানকার ইউসুফ মার্কেট নামকস্থানের মনির হোসেন মন্ডলের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। সেখানে তার ছেলে সাকিল মিয়া একটি ইজিবাইক ভাড়ায় চালাতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২০ সালে ১৭ নভেম্বর সকাল ১০ টার দিকে সম্রাট মিয়ার গ্যারেজ থেকে ইজিবাইক নিয়ে সাকিল মিয়া কাশিমপুর সড়কে যাত্রীবহনের উদ্দেশ্যে বের হয়। রাত প্রায় সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফিরলে শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে জানতে পারেন যে, কাশিমপুরের সুরাবাড়ি সাকিনস্থ শাজাহান ভুঁইয়া মেমোরিয়াল স্কুল রোডের হাসেম দেওয়ানের আম বাগানের সড়কের ওপর এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ খবর পেয় সেখানে পৌঁছানের আগে স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে কাশিমপুরের ডক্টরস ক্লিনিকে ও পরে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সাকিলকে মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পায় বাবা-মা। অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাকিলকে পিটিয়ে ও ছুড়িকাঘাতে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
বিদ্যামান পরিস্থিতিতে শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে কাশিমপুর থানায় অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় জসিম মোল্লা নামের একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সাথে মামলাটি পুলিশের তদন্ত সঠিক না হওয়ায় নারাজি করে বাদি। এমতাবস্থায় ডিবির পর পিবিআই তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সেটিও সন্তোষজনক না হলে আবার নারাজি করার পর বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে বলে বাদি সুত্রে জানা গেছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে বাদি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সাকিলকে নিয়ে দিনবদলের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে ফেলেছে হত্যাকারিরা।
তিনি আরও বলেন, মামলাটি সঠিক তদন্তসহ গ্রেফতারকৃত জসিম মোল্লাকে রিমান্ডে নেওয়া হলেও এই হত্যাকাণ্ডের মূলরহস্য ওঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করাসহ তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করেও সঠিক বিচারের দাবি করছি।
এ ব্যাপারে তৎকালীন কাশিমপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















