চাচার ছোড়া অ্যাসিডে ঝলছে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদ মন্ডলের শরীর। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে একমাস চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে তার ক্লাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় ক্লাশে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার।
অ্যাসিড দগ্ধ আসাদ মন্ডল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর সাহাবাজ গ্রামের মো. ফিরোজ মন্ডলের ছেলে।
জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত বাবর আলী মন্ডলের ছেলে ফিরোজ মন্ডল ও রাশেদুল ইসলাম ওরফে সুমন মন্ডলের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিলো। সে কারণে সুমন মন্ডল বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন ফিরোজ মন্ডল ও তার স্ত্রী সন্তানদের। এ অবস্থা চলতে থাকাকালীন সময়ে বাবার রেখে যাওয়া টাকাকে কেন্দ্র করে মায়ের সাথে বিবাদ হয় রাশেদুলের। চরমে উঠলে রাশেদুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার মা রোকেয়া বেগম। মামলায় ফিরোজের হাত আছে ভেবে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রাশেদুল।
এরই জের ধরে সুমন মন্ডল গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ফিরোজ মন্ডলের ছেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদ মন্ডল ও সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তনু মন্ডলকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এঘটনার পরদিন রাতে থানায় এজাহার দেন অ্যাসিড দগ্ধ দুই শিক্ষার্থীর মা মোছা. আনোয়ারা বেগম।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আসাদ মন্ডল বলেন, সহপাঠীরা ঘুরছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। আর আমি কাতরাচ্ছি অ্যাসিড নিক্ষেপের যন্ত্রণায়। বন্দি নিজ ঘরের চার দেয়ালে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিন ক্লাশ শুরু। যাওয়া হবে না। কি দুর্ভাগ্য আমার! স্বপ্নভঙ্গের অনুভুতিগুলো প্রকাশ করতে পারছিনা।
দগ্ধ আসাদ মন্ডলের মা মোছা. আনোয়ারা বেগমের বলেন, ছেলের বন্ধুরা ফোন করেছিলেন। উদ্বোধনী ক্লাশ ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে। কি করবো বুঝতে পারছি না। নিজের বাড়িতেই নিরাপত্তা দিতে পারিনি ছেলেকে। বিশ্ববিদ্যালয় গেলে কে দেখে রাখবে তাকে। শত্রুরা তো আর বসে নেই।
তিনি আরও বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ ছিল আমাদের মাঝে। ছেলেরা তো কোনো অন্যায় করেনি। কি কারণে তাদের শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হলো। আইনের আশ্রয়ও নিয়েছি। আসামি ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের ধরছে না। বুঝতে পারছি না কি আছে আমাদের কপালে। ছেলে পুরোপুরি সুস্থ না। এখনও সে চোখে কম দেখে। কানেও শোনে কম। জেগে থাকে সাড়া রাত, ঘুমাতেও পারে না। ঠিকমতো পারেনা খেতেও। বাহিরে বের হতে ভয় পায়। সারাদিন ঘরেই শুয়ে-বসে থাকে।
এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, আসামি ধরতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ে এর একটা ফলাফল পাবো।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















