শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানের স্বর্গরাজ্য যে গ্রাম

ছয়ঘরিয়া নামের নিভৃত একটি গ্রাম। এখানে ১ হাজার পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ পরিবার গড়ে তুলেছে পানের বরজ। একসময় গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার দরিদ্রের কষাঘাতে ভুগছিলেন। এরই মধ্যে পানচাষে তারা ঘুরিয়েছে ভাগ্যোর চাকা। একই সঙ্গে এ বছরের পানের দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

পানের স্বর্গরাজ্য খ্যাত এই গ্রামটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে যেদিকে চোখ যায়, শুধুই দৃষ্টি কাড়ে পানের বরজ। কৃষকরা বরজের পরিচর্যাসহ পরিপক্ক পান ছিড়ে বাড়ির উঠানে এনে স্তুপ করে রাখছেন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মিলে পান বাছাই করে আলাদা করে রাখছেন।

জানা যায়, প্রায় দুইযুগ আগে এ এলাকায় দেশিয় জাতের পানের চাষ হতো। কিন্তু  প্রতিযোগিতার বাজারে সেই পান টিকতে পারেনি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলো এলাকায় নদী ভাঙন। আর এ দুই কারণে টানা পাঁচ বছর পান চাষ হয়নি এই এলাকায়। পরে ২০০৩ সালের দিকে তালতলি ও বিক্রমপুরি এ দুই জাতের পান দিয়ে আবারও পান চাষ শুরু করা হয়। এরপর থেকে অধিক পরিমান পান উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখে তারা। ধীরে ধীরে কৃষক-শ্রমিক সকল পরিবারে ফিরে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। বর্তমানে ছয়ঘরিয়া গ্রামের উৎপাদিত পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে জেলার বাহিরে।

এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এ বছরে সারের সংকটে পান আবাদে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এমন কি কৃষি বিভাগের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পান চাষ টিকে রাখতে হলে টিএসপি সারের দাম কমানোসহ পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

কৃষক খলিল মিয়া ও আমজাদ হোসেন বলেন, পানের বরজ থেকে সারা বছরই পান সংগ্রহ করা যায়। তবে শীতকালে তুলনামূলক কম পান উৎপাদন হয়। কারণ শীতকালে পান পাতা বাড়ে কম। এসময় উৎপাদন কম হলেও বাজারে পানের দাম থাকে বেশি।

মমিনা বেওয়া নামের এক নারী জানান, কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা গেছে। পান বিক্রি করেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেজো ছেলে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্স এবং ছোট ছেলে এবার এসএসসি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বসতবাড়িসহ মোট জমি ৪০ শতক। এরমধ্যে ১৭ শতকে পানের বরজ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বজর থেকে পান সংগ্রহ করা হয়। যা বিক্রি হয় ৪-৫ হাজার টাকা। তবে বর্ষাকালে আরও বেশি পান তোলা যায়। মূলত পান বিক্রির অর্থ দিয়েই আমার সংসার ভালো চলছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাশিদুল কবির বলেন, অন্যান্য ফসল আবাদের তুলনায় পান চাষ অত্যান্ত লাভজনক। ওই গ্রামের কৃষকদের লাভবান করতে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

পানের স্বর্গরাজ্য যে গ্রাম

প্রকাশের সময়: ০২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২

ছয়ঘরিয়া নামের নিভৃত একটি গ্রাম। এখানে ১ হাজার পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ পরিবার গড়ে তুলেছে পানের বরজ। একসময় গ্রামটির অধিকাংশ পরিবার দরিদ্রের কষাঘাতে ভুগছিলেন। এরই মধ্যে পানচাষে তারা ঘুরিয়েছে ভাগ্যোর চাকা। একই সঙ্গে এ বছরের পানের দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

পানের স্বর্গরাজ্য খ্যাত এই গ্রামটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত। এখানে যেদিকে চোখ যায়, শুধুই দৃষ্টি কাড়ে পানের বরজ। কৃষকরা বরজের পরিচর্যাসহ পরিপক্ক পান ছিড়ে বাড়ির উঠানে এনে স্তুপ করে রাখছেন। সেখানে পরিবারের সদস্যরা মিলে পান বাছাই করে আলাদা করে রাখছেন।

জানা যায়, প্রায় দুইযুগ আগে এ এলাকায় দেশিয় জাতের পানের চাষ হতো। কিন্তু  প্রতিযোগিতার বাজারে সেই পান টিকতে পারেনি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলো এলাকায় নদী ভাঙন। আর এ দুই কারণে টানা পাঁচ বছর পান চাষ হয়নি এই এলাকায়। পরে ২০০৩ সালের দিকে তালতলি ও বিক্রমপুরি এ দুই জাতের পান দিয়ে আবারও পান চাষ শুরু করা হয়। এরপর থেকে অধিক পরিমান পান উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখে তারা। ধীরে ধীরে কৃষক-শ্রমিক সকল পরিবারে ফিরে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। বর্তমানে ছয়ঘরিয়া গ্রামের উৎপাদিত পান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে জেলার বাহিরে।

এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এ বছরে সারের সংকটে পান আবাদে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এমন কি কৃষি বিভাগের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পান চাষ টিকে রাখতে হলে টিএসপি সারের দাম কমানোসহ পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

কৃষক খলিল মিয়া ও আমজাদ হোসেন বলেন, পানের বরজ থেকে সারা বছরই পান সংগ্রহ করা যায়। তবে শীতকালে তুলনামূলক কম পান উৎপাদন হয়। কারণ শীতকালে পান পাতা বাড়ে কম। এসময় উৎপাদন কম হলেও বাজারে পানের দাম থাকে বেশি।

মমিনা বেওয়া নামের এক নারী জানান, কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা গেছে। পান বিক্রি করেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেজো ছেলে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অনার্স এবং ছোট ছেলে এবার এসএসসি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বসতবাড়িসহ মোট জমি ৪০ শতক। এরমধ্যে ১৭ শতকে পানের বরজ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বজর থেকে পান সংগ্রহ করা হয়। যা বিক্রি হয় ৪-৫ হাজার টাকা। তবে বর্ষাকালে আরও বেশি পান তোলা যায়। মূলত পান বিক্রির অর্থ দিয়েই আমার সংসার ভালো চলছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাশিদুল কবির বলেন, অন্যান্য ফসল আবাদের তুলনায় পান চাষ অত্যান্ত লাভজনক। ওই গ্রামের কৃষকদের লাভবান করতে সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।