শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনমজুর সামাদের মেয়ে সাদিয়া জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত 

পাবনার চাটমোহরে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও মোছা. সাদিয়া খাতুন নামের এক শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাদিয়া উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামের দিনমজুর ভূমিহীন আব্দুস সামাদ ও গৃহিণী জামেনা খাতুনের মেয়ে।
সে এ বছর বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
জানা গেছে, মেধাবী সাদিয়া পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও অর্থের অভাবে ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত সাদিয়া ও তার দরিদ্র বাবা-মা।
অভাবের সংসারে পড়ালেখা করানোর সামর্থ্য নেই তার দিনমজুর বাবার। অথচ শত অভাবের মাঝেও সাদিয়া বুকে লালন করছে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন।
ভালো ফলাফলের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাদিয়া বলে, স্যাররা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। এজন্য এই ফল করতে পেরেছি আমি।
সাদিয়ার বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, বাবার রেখে যাওয়া বসতবাড়ির ১০ শতাংশ ভিটে ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই আমার। দিন এনে দিন খেতে হয় আমাদের। মেয়ের পড়াশোনার টাকা দেবো কোথা থেকে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আল্লাহ জানেন, টাকার অভাবে মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না।
সাদিয়ার মা জামেনা খাতুন বলেন, টাকার অভাবে মেয়েকে কোনোদিন একটা ভালো জামা কিনে দিতে পারিনি। পড়াতে পারিনি প্রাইভেট। অনেক কষ্টে সে এ পর্যন্ত এসেছে। মেয়েকে কলেজে কিভাবে ভর্তি করবো, তা জানি না।
বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করেছি। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা করলে সাদিয়া হয়তো লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।
জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

দিনমজুর সামাদের মেয়ে সাদিয়া জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত 

প্রকাশের সময়: ০৩:৪৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২
পাবনার চাটমোহরে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও মোছা. সাদিয়া খাতুন নামের এক শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সাদিয়া উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামের দিনমজুর ভূমিহীন আব্দুস সামাদ ও গৃহিণী জামেনা খাতুনের মেয়ে।
সে এ বছর বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
জানা গেছে, মেধাবী সাদিয়া পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেও অর্থের অভাবে ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত সাদিয়া ও তার দরিদ্র বাবা-মা।
অভাবের সংসারে পড়ালেখা করানোর সামর্থ্য নেই তার দিনমজুর বাবার। অথচ শত অভাবের মাঝেও সাদিয়া বুকে লালন করছে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন।
ভালো ফলাফলের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাদিয়া বলে, স্যাররা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। এজন্য এই ফল করতে পেরেছি আমি।
সাদিয়ার বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, বাবার রেখে যাওয়া বসতবাড়ির ১০ শতাংশ ভিটে ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই আমার। দিন এনে দিন খেতে হয় আমাদের। মেয়ের পড়াশোনার টাকা দেবো কোথা থেকে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আল্লাহ জানেন, টাকার অভাবে মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না।
সাদিয়ার মা জামেনা খাতুন বলেন, টাকার অভাবে মেয়েকে কোনোদিন একটা ভালো জামা কিনে দিতে পারিনি। পড়াতে পারিনি প্রাইভেট। অনেক কষ্টে সে এ পর্যন্ত এসেছে। মেয়েকে কলেজে কিভাবে ভর্তি করবো, তা জানি না।
বিলচলন ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করেছি। উচ্চ শিক্ষার জন্য বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা করলে সাদিয়া হয়তো লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।