শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরলের বহলা ট্রাজেডি দিবস কাল

আগামীকাল মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর। দিনাজপুরের বিরলের বহলা ট্রাজেডি দিবস। এ দিনের কথা মনে হলে এখনো বহলাসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের শরীর শিউরে ওঠে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কাঞ্চন রেল ব্রিজের দক্ষিণে বিজোড়া ইউপির দক্ষিণ বহলা গ্রাম। ৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার সময় পুরো পাড়াটাই ঘিরে ফেলে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্য ও তাদের দোসররা। তারা প্রস্তাব দেয় সে গ্রামে খানদের ক্যাম্প স্থাপন করার। এসময় গ্রামের সাধারণ মানুষেরা বাঁধা দিলে তাদের সারিবদ্ধ করে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। এতে ৩৯ জন নিরীহ মানুষের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারা। পাকসেনা ও তাদের দোসাররা লাশগুলো স্তুপ করে রেখে চলে যায়। টানা তিনদিন পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর বিকালে পঁচন ধরা লাশগুলো পাশে একটি গণকবরে একই সাথে ৩৩ জনকে সমাহিত করা হয়। বাকি ৬ জনকে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। তারা হলেন-সাহেরউদ্দিন, খমিরউদ্দিন, ওহাব আলী, মছলেউদ্দিন, সফিউদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুর রহমান, ভুতা মোহাম্মদ, কালু মোহাম্মদ, জাহেরউদ্দিন, আখি মোহাম্মদ, টাকরু, তসিরউদ্দিন, নুরু মোহাম্মদ, সামিরউদ্দিন, আব্দুল লতিফ, ছপিউদ্দিন, রবিতুল্যাহ, আকবর আলী, আমিন আলী, মুন্সি আব্দুল জব্বার, ইসাহাক আলী, মহসীন আলী (চেন্দেরু), জয়নাল আবেদীন, বারেকতুল্যা, রহিমউদ্দিন, গোলাম মোস্তফা (গলো), আব্দুল করিম আলী, সোহরাব আলী, মোস্তাফা (মনু), ওমর আলী,  মুজিতুল্যাহ ও আছিরউদ্দিন।পারিবারিকভাবে দাফন করা ৬ জন হলেন- ফজলু, খেতু বোড়াল, খলিলউদ্দিন, জাহের মোহাম্মদ, রহিমদ্দিন ও আব্দুল মালেক।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

বিরলের বহলা ট্রাজেডি দিবস কাল

প্রকাশের সময়: ০৮:০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২২
আগামীকাল মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর। দিনাজপুরের বিরলের বহলা ট্রাজেডি দিবস। এ দিনের কথা মনে হলে এখনো বহলাসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের শরীর শিউরে ওঠে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কাঞ্চন রেল ব্রিজের দক্ষিণে বিজোড়া ইউপির দক্ষিণ বহলা গ্রাম। ৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার সময় পুরো পাড়াটাই ঘিরে ফেলে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্য ও তাদের দোসররা। তারা প্রস্তাব দেয় সে গ্রামে খানদের ক্যাম্প স্থাপন করার। এসময় গ্রামের সাধারণ মানুষেরা বাঁধা দিলে তাদের সারিবদ্ধ করে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। এতে ৩৯ জন নিরীহ মানুষের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারা। পাকসেনা ও তাদের দোসাররা লাশগুলো স্তুপ করে রেখে চলে যায়। টানা তিনদিন পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর বিকালে পঁচন ধরা লাশগুলো পাশে একটি গণকবরে একই সাথে ৩৩ জনকে সমাহিত করা হয়। বাকি ৬ জনকে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। তারা হলেন-সাহেরউদ্দিন, খমিরউদ্দিন, ওহাব আলী, মছলেউদ্দিন, সফিউদ্দিন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুর রহমান, ভুতা মোহাম্মদ, কালু মোহাম্মদ, জাহেরউদ্দিন, আখি মোহাম্মদ, টাকরু, তসিরউদ্দিন, নুরু মোহাম্মদ, সামিরউদ্দিন, আব্দুল লতিফ, ছপিউদ্দিন, রবিতুল্যাহ, আকবর আলী, আমিন আলী, মুন্সি আব্দুল জব্বার, ইসাহাক আলী, মহসীন আলী (চেন্দেরু), জয়নাল আবেদীন, বারেকতুল্যা, রহিমউদ্দিন, গোলাম মোস্তফা (গলো), আব্দুল করিম আলী, সোহরাব আলী, মোস্তাফা (মনু), ওমর আলী,  মুজিতুল্যাহ ও আছিরউদ্দিন।পারিবারিকভাবে দাফন করা ৬ জন হলেন- ফজলু, খেতু বোড়াল, খলিলউদ্দিন, জাহের মোহাম্মদ, রহিমদ্দিন ও আব্দুল মালেক।