শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের টিফিনের ২০ টাকায় সজীব এখন দোকান্দার

চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশু সজীব মিয়া। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। প্রত্যেকদিন স্কুলে যেতে তার মা টিফিনের জন্য ৫ টাকা করে দিতেন। এই টাকা বাঁচিয়ে তা জমিয়েছিল মাত্র ২০ টাকা। তিন মাস আগে সেই ২০ টাকা দিয়ে একটি দোকান শুরু করে সজীব। এ দোকানে এখন মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭০০ টাকা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেকরির চর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সজীব মিয়া। মাত্র ২০ টাকা দিয়ে দোকান শুরু করায় সজীবকে এখন ‘কুড়ি টাকার দোকানি‘ বলে সবাই ডাকেন ও চেনেন।

উপজেলা শহর থেকে মহিলা বাজার হয়ে একটু পূর্ব দিকে গিয়ে সোজা উত্তর দিকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূর্গম মেঠোপথ পাড়ি দিলে তবেই পাওয়া যাবে সজিব মিয়ার সেই ‘কুড়ি টাকার দোকান’।

জানা যায়, খেয়ে-পরে জীবন বাঁচানোর তাগিদে অলস সময় কাটানোর যেন কোনো সুযোগ নেই চরাঞ্চলের মানুষের। নারী-পুরুষ সবাইকে কাজ করতে হয় মাঠে। বাদ যায় না শিশু কিশোররাও। স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের সাথে ক্ষেতখামারের কাজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে করতে হয়।

শ্রমিক বাবা আমজাদ হোসেনের বাড়ি ছিল হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার হাজারিহাট গ্রামে। কয়েক দফায় তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে অবশেষে ঠাঁই নিয়েছেন ওই বেকরির চর এবং উলিপুরের চর বিরহিম সীমান্তের ধুধু বালুচরে। এখানে দেখা যায়, পাট খড়ির ছাউনি-বেড়া দিয়ে তৈরি সজিবের দোকান ঘরটি। তাতে নেই কোনো পাটাতন। মাটির মধ্যে রয়েছে চটি বিছানো। তাতে বসেই দোকানদারি করে সজিব। দোকানে রয়েছে- পাউরুটি, বনরুটি, সিঙারা, সামুচা, ক্রিমবল, বালুশিয়াসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য। আরও রয়েছে পানি পানের জন্য জগ ও গ্লাস। ক্রেতা বলতে ওই মাঠে কাজ করা কৃষক আর শ্রমিক। আশপাশে কোনো দোকান না থাকায় দৈনিক বিক্রি হয় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

সজীব মিয়া বলে, মা-বাবার অভাব। তাদের সাহায্য করতে এ দোকান করা। স্কুল খোলা থাকলে মা সুমি বেগম করেন সেই দোকান। স্কুল থেকে ফিরে আমি দোকানে বসে ব্যবসার করি। যা আয় হয় মায়ের হাতেই তুলে দিই।

সজীবের মা সুমি বেগম জানান, কোনো নিজের ভিটেমাটি নেই তাদের। অন্যের দেওয়া একচিলতে মাটিতে তাদের বাড়ি। ঘর বলতে ওই একটি চালা আর রান্নার জন্য রয়েছে পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ছাউনি। স্বামী আমজাদের মত তিনিও একজন কৃষি শ্রমিক। কখনো কাজ পান আবার কখনোবা পান না। কষ্টের জীবন তাদের। সজিব তাদের একমাত্র সন্তান। খুব মিতব্যয়ী সে। মাত্র ২০ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন তা ৭০০ টাকা পুঁজি হওয়ায় বেজায় খুশি।

বেকরির চরের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, চলতি রবি মৌসুমে এই চরে আলু, মরিচ ও ভূট্রাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষেত রয়েছে। এখানে দিনভর শ্রমিকরা কাজ করছে। এর আশপাশে কোন দোকান না থাকায় সজীবের দোকানে সদায় করেন শ্রমিকরা।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

মায়ের টিফিনের ২০ টাকায় সজীব এখন দোকান্দার

প্রকাশের সময়: ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২২

চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিশু সজীব মিয়া। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। প্রত্যেকদিন স্কুলে যেতে তার মা টিফিনের জন্য ৫ টাকা করে দিতেন। এই টাকা বাঁচিয়ে তা জমিয়েছিল মাত্র ২০ টাকা। তিন মাস আগে সেই ২০ টাকা দিয়ে একটি দোকান শুরু করে সজীব। এ দোকানে এখন মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭০০ টাকা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেকরির চর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সজীব মিয়া। মাত্র ২০ টাকা দিয়ে দোকান শুরু করায় সজীবকে এখন ‘কুড়ি টাকার দোকানি‘ বলে সবাই ডাকেন ও চেনেন।

উপজেলা শহর থেকে মহিলা বাজার হয়ে একটু পূর্ব দিকে গিয়ে সোজা উত্তর দিকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূর্গম মেঠোপথ পাড়ি দিলে তবেই পাওয়া যাবে সজিব মিয়ার সেই ‘কুড়ি টাকার দোকান’।

জানা যায়, খেয়ে-পরে জীবন বাঁচানোর তাগিদে অলস সময় কাটানোর যেন কোনো সুযোগ নেই চরাঞ্চলের মানুষের। নারী-পুরুষ সবাইকে কাজ করতে হয় মাঠে। বাদ যায় না শিশু কিশোররাও। স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের সাথে ক্ষেতখামারের কাজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে করতে হয়।

শ্রমিক বাবা আমজাদ হোসেনের বাড়ি ছিল হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার হাজারিহাট গ্রামে। কয়েক দফায় তিস্তার ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে অবশেষে ঠাঁই নিয়েছেন ওই বেকরির চর এবং উলিপুরের চর বিরহিম সীমান্তের ধুধু বালুচরে। এখানে দেখা যায়, পাট খড়ির ছাউনি-বেড়া দিয়ে তৈরি সজিবের দোকান ঘরটি। তাতে নেই কোনো পাটাতন। মাটির মধ্যে রয়েছে চটি বিছানো। তাতে বসেই দোকানদারি করে সজিব। দোকানে রয়েছে- পাউরুটি, বনরুটি, সিঙারা, সামুচা, ক্রিমবল, বালুশিয়াসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য। আরও রয়েছে পানি পানের জন্য জগ ও গ্লাস। ক্রেতা বলতে ওই মাঠে কাজ করা কৃষক আর শ্রমিক। আশপাশে কোনো দোকান না থাকায় দৈনিক বিক্রি হয় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

সজীব মিয়া বলে, মা-বাবার অভাব। তাদের সাহায্য করতে এ দোকান করা। স্কুল খোলা থাকলে মা সুমি বেগম করেন সেই দোকান। স্কুল থেকে ফিরে আমি দোকানে বসে ব্যবসার করি। যা আয় হয় মায়ের হাতেই তুলে দিই।

সজীবের মা সুমি বেগম জানান, কোনো নিজের ভিটেমাটি নেই তাদের। অন্যের দেওয়া একচিলতে মাটিতে তাদের বাড়ি। ঘর বলতে ওই একটি চালা আর রান্নার জন্য রয়েছে পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ছাউনি। স্বামী আমজাদের মত তিনিও একজন কৃষি শ্রমিক। কখনো কাজ পান আবার কখনোবা পান না। কষ্টের জীবন তাদের। সজিব তাদের একমাত্র সন্তান। খুব মিতব্যয়ী সে। মাত্র ২০ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন তা ৭০০ টাকা পুঁজি হওয়ায় বেজায় খুশি।

বেকরির চরের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, চলতি রবি মৌসুমে এই চরে আলু, মরিচ ও ভূট্রাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষেত রয়েছে। এখানে দিনভর শ্রমিকরা কাজ করছে। এর আশপাশে কোন দোকান না থাকায় সজীবের দোকানে সদায় করেন শ্রমিকরা।